নির্দেশনার অপেক্ষায় থেকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ছয়টি সরকারি গাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এগুলো বিক্রি না করায় সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্থায়ী নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ ক্যানটিনের সামনে চারটি অ্যাম্বুলেন্স মাটির সঙ্গে প্রায় মিশে গেছে। এ ছাড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি জিপ গাড়িরও একই অবস্থা। প্রতিটি গাড়ির নম্বর প্লেট খুলে নেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ গাড়ির ভেতরের যন্ত্রাংশ অদৃশ্য।
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার প্রফুল্ল জানান, হাসপাতালে এখন দুটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু কোনো অ্যাম্বুলেন্সেই নম্বর প্লেট নেই। একটি প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে ব্যবহৃত হলেও এখন পর্যন্ত গাড়িতে নম্বর প্লেট লাগানো হয়নি।
নেত্রকোনা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ সাহিদা পারভীন জানান, নার্সিং ইনস্টিটিউটের কম্পাউন্ডের ভেতরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি জিপ গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। গাড়িগুলো কার তিনি তা জানেন না। তবে গাড়িগুলো নার্সিং ইনস্টিটিউটের নয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সাঈদ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গাড়িগুলোর মধ্যে একটি মোহনগঞ্জ হাসপাতালের এবং আরেকটি বারহাট্টা হাসপাতালের। এই দুটি গাড়ির কাগজ অফিসে আছে। চারটি গাড়ির কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। গাড়িগুলোর কাগজপত্র ও নম্বর প্লেট অন্য কেউ ব্যবহার করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মেরামত কিংবা বিক্রি করার উপায় না থাকায় গাড়িগুলো বিলীন হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালের একটি অসাধু সিন্ডিকেট অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত না করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে নষ্ট করছে। অন্যদিকে হাসপাতালজুড়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে। হাসপাতালে রোগী এলেই অধিকাংশ রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এই সুযোগে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী পরিবহনের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বলেন, হাসপাতালে অব্যবহৃত সরকারি গাড়িগুলো তত্ত্বাবধায়ক যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বিক্রি করলেই সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট হতো না। তা ছাড়া উপজেলা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতালে রাখার কথা নয়। পুরনো গাড়িগুলোর কাগজপত্র অবশ্যই তত্ত্বাবধায়কের কাছে থাকতে হবে। গাড়িগুলোর কাগজ ও নম্বর প্লেট ব্যবহার করে অন্য কেউ অপরাধে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি জানান।
