সেতু আছে সড়ক নেই বাঁশের সাঁকোই ভরসা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৩, ০১:০৩ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের রোয়াচালা গ্রামে খালের ওপর সেতু নির্মাণের দুই বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন। বাধ্য হয়ে তিন গ্রামের মানুষ সেতুতে ওঠানামায় ব্যবহার করছে বাঁশের সাঁকো। এতে সেতুর কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিএসপি ৩-এর আওতায় উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের রোয়াচালা আহাদ মিয়ার বাড়ির সামনে কুড়াখাল রাস্তার ওপর ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণকাজ সম্পন্নের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল বাহার। তবে ওই বরাদ্দে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাটির খরচ ধরা হলেও মাটি ফেলা হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, খালের প্রস্থের তুলনায় সেতুটি অনেক ছোট করে নির্মাণ করা হয়েছে। তার ওপর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি রাস্তা থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেতুতে উঠার ব্যবস্থা করেছে। এখন সেতুটি শুধু পায়ে হাঁটার কাজে ব্যবহার হয়। রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই।

রোয়াচালা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘সেতুটি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় রোয়াচালা ও কুড়াখাল বাজারে যেতে প্রায় তিন কিলোমিটার হাঁটতে হয় আমাদের। পাশাপাশি কুড়াখাল ও কুরুন্ডি গ্রামে যে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে যেতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল বাহার বলেন, সেতুটির দুপাশে খুব গভীর হওয়ায় বরাদ্দের সময় সংযোগের জন্য যে টাকা ধরা হয়েছিল তা দিয়ে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বর্ষার পানির জন্য দূর থেকে মাটি আনা যাচ্ছে না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে পানি কমলে সেখানে মাটি ফেলে সেতুর সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন ভুঁইয়া জনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খুব দ্রুতই সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সড়কের সঙ্গে সেতুর সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত