মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা

দেশে ভয়াবহ কিছু ঘটানোর পরিকল্পনা করছে সরকার

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৬:১৫ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি আপনাদের একটি আশঙ্কার কথা বলি, এটা বলা দরকার, জাতির জানা উচিত। সরকার দেশে ভয়াবহ কিছু ঘটানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে নির্বাচনে বিরোধী দলকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা যায়। তারা অতীতের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার প্রক্রিয়াটি সরকারের “সাজানো নাটক”।’

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই অভিযোগ করেন। এর আগে দলটির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নির্ধারণের বিষয়ে যৌথসভা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিও তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার কার্যক্রম তো শেষই করে ফেলেছে। ব্যাপার হচ্ছে, পুরো বিষয়টাই (বিচার প্রক্রিয়া) একেবারে সাজানো একটা নাটক। কারণ, যেখানে মিটিং হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মিটিং না হয়ে অন্য জায়গায় মিটিং শিফট করা হলো। ডিএমপিকে সেটা ইনফার্ম করা হয়নি। তিনবার এফআইআর হয়েছে, তারেক রহমানের নাম কখনোই ছিল না। পরে অবসরপ্রাপ্ত কাহার আকন্দ যিনি আওয়ামী লীগের নমিনেশন চেয়েছিলেন, তাকে নিয়ে এসে পুনরায় চাকরি দিয়ে মামলার আইও বানিয়ে তারেক রহমানের নাম সেখানে দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নাম একমাত্র মুফতি হান্নানকে দিয়ে বলানো হয়েছিল প্রায় ১৪৫ দিন রিমান্ডে নেওয়ার পরে। তিনি আবার সেটাকে কিন্তু অস্বীকার করে এফিডিভেট দিয়েছিলেন। সেটাকে গ্রহণ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একুশে আগস্টের ঘটনাকে কনডেম করি। এটা ডেফিনেটলি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম জঘন্য একটি ঘটনা এবং কনডেনেবল। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, রাজনৈতিক কারণে রাজনৈতিক নেতাদের নাম দিয়ে, সেখানে রাজনৈতিক ফয়দা লোটা হচ্ছে। তারেক রহমান, বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু বা লুৎফুজ্জামান বাবর তারা কেউ এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, রাজনৈতিক কারণে তাদের জড়ানো হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে বারবার ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু কখনোই বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারেনি। বিএনপি একটা প্রবহমান স্রোতস্বিনী নদী। এখানে কেউ এসেছে, কেউ গেছে, কিন্তু গতিকে কেউ রুদ্ধ করতে পারেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি জাতির জন্য দ্বিতীয় একটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছে। এটা কোনো হালকাভাবে কথা বলছি না, এটা কথার কথা বলছি না। বাংলাদেশের ৫২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত এখন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সব দলকে নিয়ে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, মজিবুর রহমান সরোয়ার, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যৌথ সভায় অংশ নেন যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, জাসাসের হেলাল খান প্রমুখ।

একুশে আগস্টের হামলা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র : গতকাল বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ঝুলিতে জনসমর্থন শূন্যের কোঠায় বলেই বিকারগ্রস্ত হয়ে প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চান।’

এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত