গাজার ইতিহাস রক্ষায় ৯ ফিলিস্তিনি নারী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:০৫ এএম

গাজার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নথিভুক্তির কাজ করছেন ফিলিস্তিনের ৯ নারী। তারা পুরনো বই, পান্ডুলিপি, পত্রপত্রিকা, নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংরক্ষণ করেন। তাদের মাধ্যমে গাজা উপত্যকার শত বছর থেকে হাজার বছরের পুরনো অনেক বই ও দুর্লভ পা-ুলিপি সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ফুটে উঠবে ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস।

গাজার ইতিহাস সংরক্ষণে

ফিলিস্তিনি এই নারীদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়াম। মূলত সারা বিশ্বের গবেষকদের গবেষণায় সহায়তা করতে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে সংরক্ষণের এই প্রকল্প গ্রহণ করে দি আইস অন হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। এই ৯ নারী ২০১৭ সাল থেকে সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। প্রকল্পের পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন হানিন আল সারসাবি। তিনি জানিয়েছেন, এখানে দুর্লভ পত্রিকা, বই, সংবাদপত্র, নথি ও পা-ুলিপি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কাজ করা হয়।

কয়েক ধাপে এসব কাজ সম্পন্ন হয়। প্রথমে এসব পান্ডুলিপির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি এসব সামগ্রীর কাগজের গুণমান, অম্লতা, কালির স্থিতিশীলতা এবং তা কার্বন বা লোহা হলে এর ধরন পরীক্ষা করে দেখা হয়। এরপর বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা দেখা হয় এবং নরম ব্রাশ বা মেডিকেল ফোরসেপ বা কাঁচি ইত্যাদি ব্যবহার করে পৃষ্ঠা পরিষ্কার করা হয়। অতঃপর তা আর্কাইভে যুক্ত করা হয়।

পান্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজটি খুবই গুরুত্ব বহন করে। বিশেষত আরব ও ইসলামি জগতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সংরক্ষিত হয়। আর দুর্লভ পান্ডুলিপি ও বইয়ের গুরুত্ব যত বেশি হবে তা সংরক্ষণের গুরুত্বও তত বেশি হবে।

আইস অন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হানিন আল আমসি বলেন, এই প্রকল্পে পিএইচডি ও স্নাতকোত্তরধারী ৯ জন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক কাজ করছেন। তারা আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ডিজিটাল পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তা ছাড়া গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে পান্ডুলিপি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত