১১ লাখ টাকায় গৃহবধূ হত্যা মামলা রফা নেতাদের

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:৪৪ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দুই মাস আগে এক গৃহবধূ খুনের ঘটনায় হত্যা মামলাটি সামাজিক সালিশে ১১ লাখ টাকায় আপস করা হয়েছে। গত রবিবার বিকালে আখাউড়া পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর ও সালিশকারকের উপস্থিতিতে এক সভায় বিষয়টির আপস মীমাংসা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা দানিস খলিফার সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র এনামুল আহসান খাদেম, বাবুল মিয়া, পৌর কাউন্সিলর জান্নাত হোসেন ঈশান, সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, কাজী লিটন খাদেম, রফিকুল ইসলাম শিশু, তাজুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কাদির মোল্লা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মানিক মিয়া।

সভা সঞ্চালনা করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপন হায়দার। বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সভা শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। সভা শেষে ১৬ জনের একটি জুড়ি বোর্ড গঠন করা হয়। ওই জুড়ি বোর্ড আসামিপক্ষকে নিহতের পরিবারকে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার রায় ঘোষণা করে। আসামি পক্ষ তাৎক্ষণিক ২ লাখ টাকা সালিশ বোর্ডে জমা দেয়।

এদিকে, হত্যা মামলা সালিশের মাধ্যমে শেষ হওয়া নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত ২২ জুন আখাউড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরিফ হাসান জিকুর স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে আখাউড়া পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনসার এলাকার সোমা আক্তার (২৭) নামে ওই গৃহবধূকে বেদম মারধর করা হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সোমার মৃত্যু হয়। নিহত সোমা আক্তার চন্দনসারের জাকির হোসেন টিপুর স্ত্রী। তার ৫ বছরের একটি মেয়ে ও ২ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় সোমা আক্তারের বাবা সেলিম মিয়া বাদী হয়ে বিএনপি নেতা আরিফ হাসান জিকুসহ তার পরিবারের ৪ জনকে আসামি করে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করলে পুলিশ জিকুর মা হোসনে আরা বেগমকে (৫৫) আটক করে।

৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এনামুল আহসান খাদেম বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে সালিশ বৈঠকে সোমা আক্তার হত্যার ঘটনাটি মীমাংসা করেছি। নিহতের পরিবারকে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপন হায়দার বলেন, সোমা আক্তারের হত্যার বিষয়টি শেষ হয়েছে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী নাসির উদ্দিন বলেছেন, হত্যা মামলা এভাবে আপসযোগ্য না।

আখাউড়া থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলা সামাজিকভাবে মীমাংসা করার সুযোগ নেই। আমরা একজন আসামিকে আটক করেছি। বাকিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত