সবাইকে অজ্ঞান করে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩, ০৬:১৮ পিএম

সাভারে নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীর হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ তিনজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা পুলিশ জানায়, সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের লুটেরচর গ্রামের দুলালের একতলা বাড়িতে গভীর রাতে জানালার গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে তিন ব্যক্তি। এর আগে কৌশলে বাড়ির সবাইকে খাবারের সাথে কিছু মিশিয়ে অচেতন করেন তারা। পরে তিন যুবক ওই কিশোরীর কক্ষে প্রবেশ করে হাত-পা বেধে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে বাড়ির আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভোরে বাড়ির সকলের জ্ঞান ফিরলে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, বাড়ির পার্শ্ববর্তী সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুল্লার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নিলে হাবিবুল্লা তাদের উপর ক্ষুব্ধ হন। তার নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।

দলবদ্ধ ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের হলে অভিযুক্ত হাবিবুল্লার ছেলে ভাকুর্তা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের কৃষকলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুর রশিদ, তার ভাই যুবলীগ ইউনিয়ন কমিটির সদস্য কামাল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা দ্বীন মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সাবেক ইপি সদস্য হাবিবুল্লাহ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, ভাকুর্তার ইউনিয়নের লুটেরচর এলাকায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত বাকীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত