সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকা হাউসবোটের দখলে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ১০:২৪ পিএম

হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জ। একটা সময় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি, শহীদ সিরাজ লেক সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরতে যেতেন।

কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেই সব ছোট নৌকা। হাওরের পর্যটন এলাকাগুলো দখল করে নিয়েছে বড় বড় হাউসবোট। হাউসবোট মালিকদের মুনাফার নেশার প্রভাব পড়ছে পর্যটন এলাকাখ্যাত এসব এলাকায়। হাওরের চারদিকে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই সকল বোট বা বড় নৌকা। যার ফলে দিন যতই যাচ্ছে ততই নষ্ট হচ্ছে হাওরের সৌন্দর্য, বিনষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য।

এসব এলাকার হাওড়ে মাছ মরে যাচ্ছে, প্রভাব পড়ছে প্রাণী বৈচিত্র্যে। হাওর এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানেও পরিবর্তন আসছে। হাওর এলাকার মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস মাছ আহরণ ও কৃষিক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে জেলায় অব্যাহতভাবে চলছে লোডশেডিং। এর মধ্যে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে বড় বড় এই সব হাউসবোটে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। অনেকটা প্রকাশ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে অবৈধভাবে টানা হচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন। এতে করে সুনামগঞ্জের জন্য বরাদ্দ কৃত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এই সকল হাউসবোটে। যে কারণে লোডশেডিং আরও বাড়ছে।

সুনামগঞ্জ শহরের উত্তর আরপিন নগরের সেলু ঘাট এলাকার সুরমা নদীর পাড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি বিভিন্ন ধরনের হাউসবোট রয়েছে। এই হাউসবোট গুলো পর্যটকদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দুই দিনের জন্য প্যাকেজ নিয়ে হাওরের সৌন্দর্য ঘুরে দেখায়।

হাউজবোটের ফ্যান, লাইট, আইপিএস সহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি চার্জ দেওয়া হয় নদীর পাশে থাকা সড়কের ওপারে গড়ে ওঠা দোকানপাট গুলো থেকে বিদ্যুৎ লাইন টেনে। সেই সাথে দিনে দুপুরে অবৈধ ভাবে লাইন টেনে নৌকা গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও নীরবে বসে আছে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ।

গত ১৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জঙ্গা নামের একটি হাউজ বোটে বিদুৎ এর শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঐ সময় কোনও পর্যটক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।

এ ছাড়া শহরের লঞ্চঘাট, বৈঠাখালী ঘাট, ওয়েজখালী, মল্লিকপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিকের উপরে হাউসবোটে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

উত্তর আরপিন নগর এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট তখন এই সব হাউসবোট অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। বিদ্যুৎ বিভাগের এই দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।

এ বিষয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে দায়িত্বরত হাউসবোটের ম্যানেজার ও কর্মচারীরা দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, লাইন দিয়ে কেউ নদীতে থাকা হাউসবোট বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারবে না। যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত