সাভারের আশুলিয়ায় শিমুলতলা দরগারপাড় এলাকার একটি সরকারি গণকবরস্থান থেকে পাঁচটি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কবরস্থানের সভাপতি মোখলেছুর রহমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দরগারপাড় এলাকার গাজীর দরগাঁ সরকারি গণকবরস্থানের মহিলা কবরস্থান থেকে ওই কঙ্কালগুলো চুরি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই কবরস্থানের এক পাশে নারী এবং অপর পাশে পুরুষের লাশ দাফন করা হয়। মাহমুদা খানম নামের এক নারীর মা মারা গেলে এই কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়। প্রায় দেড় বছর যাবৎ প্রতি শুক্রবারে মায়ের জন্য দোয়া করতে কবরস্থানে যান তিনি। বেলা ১১ টার দিকে মায়ের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবরটি খোড়া দেখতে পান এবং কঙ্কাল চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আশপাশের আরও চারটি কবর খুড়ে কঙ্কাল চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা খাদেম মনির হোসেন বলেন, কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে কবরস্থানে গিয়েছি। এখান থেকে পাঁচ নারীর কঙ্কাল চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিটি কবর এক থেকে দেড় বছরের পুরোনো। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি।
কবরস্থানের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, আমাদের এই কবরস্থানে যে কঙ্কাল চুরির ঘটনাটি ঘটেছে এটা খুবই ন্যাক্কারজনক। এমনকি এ ঘটনায় এলাকাবাসীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়েছি, তারা সব ব্যবস্থা করবেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব জানান, কবরস্থানের সভাপতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগেও ২০২১ সালে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের একটি কবরস্থান থেকে ১৬ টি কঙ্কাল চুরি হয়েছিল। ২০১৯ সালে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া থেকে ৭টি কঙ্কাল এবং ২০১৫ গোকুলনগর এলাকা থেকে ১৩ টি কঙ্কাল চুরি হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।