সন্তান বিপথগামী হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২৮ এএম

সন্তান আমাদের হৃদয়ছেঁড়া অংশ। দুনিয়ার জীবনে আমাদের জীবনের সর্বস্ব সন্তানের ভালোবাসার জন্য বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করি না। কিন্তু আমাদের এ সন্তান যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন আর আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। সমাজে প্রতিনিয়ত যে কিশোর অপরাধ সহ তরুণদের দ্বারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছ এর প্রধান কারণ সন্তানদের ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রতিপালন না করা।

আমার আপনার সন্তান দুনিয়ার জীবনে মানুষের মতো মানুষ হয়ে আখেরাতে কামিয়াব হবেÑ এ জন্য ইসলাম সুস্পষ্টরূপে বিধান দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো অগ্নি থেকে।’-সুরা তাহরিম: ৮

বর্ণিত আয়াতে সাধারণ মুসলিমদের বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। অতঃপর জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহতা উল্লেখ করে অবশেষে এ কথাও বলা হয়েছে যে, যারা জাহান্নামের যোগ্য পাত্র হবে, তারা কোনো শক্তি, দলবল, খোশামোদ অথবা ঘুষের মাধ্যমে জাহান্নামে নিয়োজিত কঠোর প্রাণ ফেরেশতাদের কবল থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হবে না। এই ফেরেশতাদের নাম ‘যাবানিয়া।’এ আয়াত থেকে প্রকাশ পায়, আল্লাহর আজাব থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালানোর মধ্যেই মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে পরিবারটির নেতৃত্বের বোঝা তার কাঁধে স্থাপন করেছে তার সদস্যরা যাতে আল্লাহর প্রিয় মানুষরূপে গড়ে উঠতে পারে সাধ্যমতো সে শিক্ষা দেওয়াও তার কাজ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনে লোকদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। শাসকও দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনে লোকদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার স্বামীর বাড়ি এবং তার সন্তুানসন্ততির তত্ত্বাবধায়িকা, তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।-সহিহ বোখারি: ৮৯৩

এর উপায় এই যে, আল্লাহতায়ালা তোমাদের যেসব কাজ করতে নিষেধ করেছেন, তোমরা তাদের সেসব কাজ করতে নিষেধ করো এবং যেসব কাজ করতে আদেশ করেছেন, তোমরা পরিবার-পরিজনকে সেগুলো করতে আদেশ করো। এই কর্মপন্থা তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারবে।-ইবনে কাসির

হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে রহমত করুন, যে নিজে রাতে নামাজ আদায় করতে দাঁড়িয়েছে এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়েছে, সে যদি দাঁড়াতে অস্বীকার করে তার মুখে পানি ছিটিয়েছে। আল্লাহ ওই মহিলাকেও রহমত করুন যে, নিজে রাতে নামাজ আদায় করতে দাঁড়িয়েছে এবং তার স্বামীকে জাগিয়েছে, যদি সে দাঁড়াতে অস্বীকার করে তার মুখে পানি ছিটিয়েছে।-সুনানে আবু দাউদ: ১৪৫০

হাদিসে আরও এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের জন্য সাত বছর বয়সে পৌঁছালেই নির্দেশ দাও, আর তাদের দশ বছর হলে এর জন্য দণ্ড দাও। আর তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও।-সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫

অনুরূপভাবে পরিবার-পরিজনকে নামাজের সময়, রোজার সময় হলে স্মরণ করিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই বিতর পড়তেন তখনই হজরত আয়েশা (রা.)-কে ডাকতেন এবং বলতেন, হে আয়েশা! দাঁড়াও এবং বিতর আদায় করো।-সহিহ মুসলিম: ৭৪৪

ছোটবেলা থেকে বাবারা সন্তানদের মসজিদে নিয়ে আসবেন। নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনীর শিক্ষণীয় ঘটনা তাদের মধ্যে আলোচনা করে শোনাতে হবে। অনেক বাবা-মা এই ভুল করেন, সন্তানকে শৈশবে ইসলামের শিক্ষা দেন না। পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে গেলে সন্তানকে হাজার চেষ্টা করেও ইসলামের বিধানের দিকে মনোযোগী করা যায় না। কেননা সন্তানের শৈশবের শিক্ষাটা হচ্ছে কাদামাটির মতো, এই সময়ে তাদের যেভাবেই গড়ে তোলা হয় ভবিষ্যৎ এ এভাবেই গড়ে ওঠে।

অসৎ বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই কখন কার সঙ্গে সন্তান মিশছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্মার্টফোনের ব্যবহার আমাদের দেশে কিশোর-কিশোরীদের হাতে লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণ প্রজন্ম নষ্ট হওয়ার একটি কারণ স্মার্টফোন। আমাদের সন্তানেরা কমপক্ষে এইচএসসি বা আলিম পাস করার আগে তাদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া যাবে না। দিলেও কখন কীভাবে স্মার্টফোনের ব্যবহার করছে সেদিকে নজর রাখতে হবে কঠোরভাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত