লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানের দল। গেল মৌসুমের চ্যাম্পিয়নও তারা। তাই ইন্টার মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনো বলেছিলেন, ম্যাচটি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে মাঠে যখন মেসি, বুসকেটস, আলবা আছেন, ভালো কিছুর আশা তো করাই যায়। মেসি-জাদুতে এবার এমএলএসে মায়ামি ৩-১ গোলে হারিয়েছে এলএ এফসিকে। মেসি এদিন গোল না পেলেও করিয়েছেন দুটি।
ঘরের মাঠে প্রথম ১৩ মিনিট দাপট দেখিয়েছে এলএ এফসি। শুরু থেকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা চললেও ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ফাকুন্দো ফারিয়াস। মাঠের ডানপ্রান্ত দিয়ে টিমো আভিলেস মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ান সামনে। ফারিয়াস বল ধরে বক্সে স্ল্যাইড করে বল জালে পাঠান। একটু পরই অবশ্য সমতা ফেরাতে পারত লস অ্যাঞ্জেলেস। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়ে আবারও গোল করতে ব্যর্থ হন বোয়াঙ্গা। এরপর ২৬ মিনিটে সুযোগ পেয়ে আবার গোল করতে ব্যর্থ হয় লস অ্যাঞ্জেলেস। পরের মিনিটে মেসির শট রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। ৩৪ মিনিটে আরেকবার মায়ামিকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক ড্রেক ক্যালেন্ডার। ৩৮ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন মেসি। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্য ভেদ করতে পারেননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মায়ামি।
৫১ মিনিটে গোল করেন জর্দি আলবা। গোলটি দেখে অনেকেরই মনে পড়েছে এই তিনজনের বার্সেলোনার সময়কার রসায়নের কথা। নিজেদের অর্ধ থেকে বুসকেটস পাস দেন মেসিকে। বল নিয়ে কিছুদূর এগিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক পাস বাড়ান মাঠের বাঁ প্রান্তে আলবার উদ্দেশ্যে। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান আলবা। তৃতীয় গোলেও ছিল মেসির অবদান। এলএ এফসির এক ডিফেন্ডারের ভুলে মাঝ মাঠে বল পেয়ে যান মেসি। বল পায়ে মেসি দৌড়ে সামনে যান। মেসির পিছু পিছু লেগে ছিলেন এলএ এফসির এক ডিফেন্ডার। তবে কাজ হয়নি। সেই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসি পাস দেন বক্সে থাকা লিওনার্দো কাম্পানাকে। বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। ম্যাচের ৯০ মিনিটে একটি গোল শোধ দেন রায়ান হোলিংশেড।
মেসি বলছেন, তার দল লিগ জেতার চেষ্টা করবে। ‘আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, একটি (লিগস কাপ) শিরোপা জিততে পেরেছি। (ইউএস ওপেনের) কাপের ফাইনালে উঠতে পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য সেরা আটের মধ্যে থাকা এবং এরপর লিগ জেতা। আমরা বেড়ে উঠছি, এটাই বড় ব্যাপার। জয় সব সময়ই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।’
ম্যাচের আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসের বিপক্ষে অপেক্ষমাণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মেসি বলেছেন, ‘আমরা ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যে অনেক কথা বলেছি। আমরা কোথায় আছি, সেটা বোঝার জন্য এটা ভালো পরীক্ষা ছিল। এটা দেখতে চাইছিলাম যে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা কী করতে পারি। আমরা এই ম্যাচে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফল পেয়েছি। প্রতিনিয়ত দল আরও ভালো করছে।’
দুই কনফারেন্সের শীর্ষ সাতটি করে দল সরাসরি চলে যাবে প্লে-অফে। ৮ ও ৯ নম্বর নিজেদের মধ্যে প্লে-অফ ম্যাচ খেলবে। সেখান থেকে একটি করে দল যাবে মূলপর্ব এমএলএস কাপে। গতকালের জয়ের পরও অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের ১৪ নম্বরেই আছে মায়ামি। ২৫ ম্যাচ থেকে ২৫ পয়েন্ট মায়ামির। মায়ামির আরও ৯টি ম্যাচ বাকি। পরবর্তী ম্যাচ ৯ সেপ্টেম্বর। ৭ ও ১২ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার দুটি বিশ^কাপ বাছাইপর্ব ম্যাচের জন্য ৯ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে খেলবেন না মেসি। ১৬ সেপ্টেম্বর মায়ামির পরের ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে।
