ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়ন ও মোল্লারহাট ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের একমাত্র সংযোগ সেতুটি এক যুগ ধরে ভেঙে থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ দুই ইউনিয়নের পয়ত্রিশ হাজার লোকসহ প্রায় অর্ধলাখ বাসিন্দার।
সেতুটি ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়েছে প্রায় একযুগ আগে। তবে এখনও সংস্কার বা পুণঃনির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোগীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়লেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর আর জনপ্রতিনিধিদের কেউই সেতুটি মেরামত বা নির্মাণের জন্য এগিয়ে আসছে না। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দাকে পারাপার করতে হচ্ছে সেতুটি ।
এলাকাবাসী জানায়, ১৯৯৫সালের দিকে বিএনপি সরকারের প্রথম আমলে এলজিইডির অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এরপর এর কোনো সংস্কার বা মেরামত করা হয়নি। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে দুই ইউনিয়নের সংযোগসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সেতুটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা তুলে কাঠ,বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে সেতুটি প্রতিবছর সংস্কার করা হয় । এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও পণ্য পরিবহন করার জন্য পিকআপ চলাচল করে।
কিন্তু এই একটি সেতুই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সংস্কার করলেও বেশিদিন টেকে না। ফলে গ্রামীণ জনপথের লোকজন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ভাঙা অবস্থায় বছরের পর বছর পার হলেও সেতুটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। এলাকাবাসী আরও জানায়, এই সেতুর ভেতর ও পাশে রয়েছে তিনটি বিদ্যালয়। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী এই ভাঙা সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। এখানে রাজাবাড়ীয়া আবাসন প্রকল্পও রয়েছে। এছাড়া মোল্লারারহাট পুলিশ ক্যাম্প ও হদুয়া দরবার শরীফে এই সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় দেলোয়ার হাওলাদার, রাজ্জাক ফকির, আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন এই ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে। কখন ওরা দুর্ঘটনায় পড়ে এ নিয়ে সবসময় আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। তারা বলেন, এই সেতু দিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়ই টমটম ও অটোরিক্সা উল্টে যায়। তাই আমরা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে তারপর গাড়ি পারাপার করি। বছরের পর বছর এভাবেই আমরা পারাপার হচ্ছি। কিন্তু সেতু নির্মাণ বা সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কেউই এগিয়ে আসছে না।
মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম মাহাবুবুর রহমান সেন্টু বলেন,আমি এ ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়েছি দুবছর হয়েছে। কিন্তু আরও দশ বছর আগে থেকেই সেতুর এ অবস্থা । আমি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় প্রত্যেকবারই এই সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে আবেদন জানাই। সবশেষ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সরেজমিনে এনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে সেতুটি করার আবেদন জানিয়েছি। তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শিঘ্রই সেতুটি করে দেবে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শহীদুল ইসলাম সরকার বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে আন্ডার হান্ড্রেড মিটার প্রকল্পের আওতায় ওই সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদন পেলেই আমরা কাজ শুরু করব।
