সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) প্রভাবশালী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতানির্ভর দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। তবে জোর চেষ্টা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী সৌদি আরবকে এখনো পাশে পায়নি দেশটি। এখন সৌদি আরব-ইসরায়েলও স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে, এমন আভাস দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আর এজন্য দেশ দুটির মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতাও হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু তেল আবিবের সঙ্গে সেতু গড়ার আগে রিয়াদকে ভাবতে হচ্ছে ফিলিস্তিন নিয়ে। কারণ মুসলিম বিশ্বে প্রভাব বজায় রাখতে সৌদি আরব ফিলিস্তিনকে পাশ কাটাতে পারে না। অবশ্য বলা হচ্ছে ফিলিস্তিনও সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের বিষয়ে নমনীয়। এজন্য তাদের কয়েকটি শর্ত আছে।
বিবিসি জানায়, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সমঝোতায় সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে বেশ কটি শর্ত দিয়েছে ফিলিস্তিনের শাসক দল প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি (পিএ)। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিমের একাংশ ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া, পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করা, ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষকে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা পুনরায় চালু করা, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের জন্য মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করা, মার্কিন মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা তাদের শর্ত মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মেনে নেবে ফিলিস্তিন। গত বুধবার এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা। রিয়াদে আলোচনায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ দুজন রয়েছেন। তারা হলেন গোয়েন্দা প্রধান মাজেদ ফারাজ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সাধারণ সম্পাদক হুসেইন আল-শেখ। তারা বুধবার সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসায়েদ আল-আইবানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞাত এক সিনিয়র ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতার কাজ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য শুরুতে সৌদির কিছু শর্ত আছে। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতা চায় সৌদি আরব। যে নিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধকরণসহ একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা। এরপর আছে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি ঘিরে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা। অতীতের ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারী দলের আইন উপদেষ্টা দিয়ানা ভুট্টু বলেন, এগুলো মূলত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য চুক্তি। ২০২৩ সালে এটা নিয়ে আলোচনা গতি পেয়েছে। এখন সৌদি আরবও এতে জড়িত হতে চাইছে।
এদিকে এখনই আশার কথা বলতে নারাজ হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভ্যান। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি আমরা কোনো ঘোষণা বা বড় অগ্রগতি প্রত্যাশা করছি না।
বিবিসি লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্কের ঐতিহাসিক পুনর্বিন্যাসের সুযোগ থাকায় যেকোনো চুক্তির জন্য এমন ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে জল্পনা চলমান রয়েছে। একটি চুক্তি সফল হওয়ার জন্য এতে যে ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজ দেশের ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের বিরোধিতাকারী এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে। গত মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, আমরা ইতিহাসের বদলে যাওয়া প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছি। তিনি এমন একসময়ে এ আশার কথা বলেন যখন সৌদি আরব ইসরায়েলের একটি উড়োজাহাজকে সে দেশের মাটিতে জরুরি অবতরণের অনুমতি দেয়, এতে বেঁচে যায় ১২৮ জনের প্রাণ।
