ব্রিটিশ আমলের ভবনে হুমকিতে ভৈরব শহর

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৪৪ এএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাচীনকালের অর্ধশতাধিক পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনের কারণে হুমকিতে পড়েছে জনজীবন। ভবন ভেঙে পড়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। অন্যদিকে নতুন যেসব ভবন নির্মাণ হচ্ছে, সেগুলোও ইমারত আইন বা বিল্ডিংকোড মেনে তৈরি হচ্ছে না। গাদাগাদি করে পর্যাপ্ত রাস্তা বা জায়গা না রেখে এসব ভবন নির্মাণ হওয়ায় অগ্নিকা- বা যেকোনো দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা দেওয়াও দুরূহ হয়ে পড়ে। সবমিলে ব্যবসা কিংবা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ভৈরব শহর।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে ভৈরব নদীবন্দর একটি সমৃদ্ধ জনপদ। বিশাল হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য আর পাটকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যবসার প্রসার হয় ক্রমান্বয়ে। গড়ে ওঠে জনবসতিসহ শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তৈরি হয় বিভিন্ন ভবন। কালের পরিক্রমায় সেগুলো এখন বেশ পুরাতন, জরাজীর্ণ আর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও, ভবনগুলোতে এখনো মানুষ বসবাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। ভৈরব বাজার নদীরপাড়, লোহাঘাট, গুড়পট্টি, হলুদপট্টি, মরিচপট্টি, টিনপট্টি, নতুনগলি, কাপড়পট্টি, বটতলারোড, চকবাজার, রাণীরবাজার, শাহীমসজিদ রোড, কাচারিমোড় এলাকার সড়ক ও অলি-গলিতে এসব ভবন জীর্ণতা আর ভগ্নতা নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

শাহী মসজিদ রোড এলাকার ব্যবসায়ী কবির আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন আল্লাহকে ডেকে দোকানে ঢুকি। বের হয়ে বেঁচে থাকার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলি। কারণ আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্নস্থানে ফাটল ধরেছে। খসে খসে পড়ছে প্রলেস্তারা। তবে মালিক বলেছেন ভবনটি ভেঙে নতুন করে করবেন।’

পাশের অন্য এক ভবনে ব্যবসা করেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক নিয়ে প্রতিটি দিন কাটাই। মালিকদের বলেছি, কিন্তু তারা আশ^াস ছাড়া আর কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না।’

বিল্ডিংয়ের মালিক চায়না বেগম নিজেও জরাজীর্ণ ওই ভবনের দ্বিতীয়তলায় বসবাস করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ারিশ নিয়ে আমাদের পরিবারে ঝামেলা চলছে। তাই ভবনটি আপাতত ভাঙা যাচ্ছে না।’

চকবাজার এলাকার একটি বিশাল তিনতলা জরাজীর্ণ ভবনের মালিকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভবনটির ওয়ারিশ আমরা ১৬ জন। সবাই একমত না হতে পারায় কয়েক কোটি টাকার এই ভবনসহ মূল্যবান জমিটি পড়ে আছে।’

ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আজিজুল হক রাজন বলেন, ‘পুরাতন শহর হওয়ায় ভৈরব এমনিতেই খুব ঘনবসতিপূর্ণ। অপ্রশস্থ প্রচুর অলিগলি রয়েছে এখানে। আর নতুন ভবনগুলো বিল্ডিংকোড না মেনে নির্মাণ করায় এখানে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়। অনেক সময় এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিং হয়ে পানিবাহী গাড়ি তো দূরের বিষয়, পাইপলাইন পর্যন্ত বহন করে নেওয়া যায় না।’

পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘পুরনো ভবনগুলো ভেঙে পড়ে যেকোনো সময় হতাহতের ঘটনা ঘটাতে পারে। ভবনগুলোর বিষয়ে শিগগিরই আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।’

পৌরসভার মেয়র ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন বিল্ডিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অচিরেই নোটিস করা হবে। তাতে সাড়া না দিলে আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ইমারত আইন অমান্য করে বিল্ডিং করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কয়েকজনকে ইতিমধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে। যারা আইন মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত