আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিবেদিতপ্রাণ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:২৫ পিএম

অভিভাবকের পাহাড়সম প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে টানাপড়েন, শিক্ষাজীবনে অস্থিরতা ইত্যাদি নানা কারণে শিক্ষার্থীদের হতাশা দানা বাঁধছে। প্রয়োজনীয় শুশ্রুষা ও মনোযোগের অভাবে এই হতাশা তাদের পরিচালিত করছে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ দিকে। তবে আশার কথা হলো, এই তরুণদের এক অংশের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন জোরেশোরে। এমন তিনটি সংগঠন হলো মেন্টাল কেয়ার হেলথ, প্রেরক ফাউন্ডেশন ও তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান

মেন্টাল হেলথ কেয়ার

২০২০ করোনা মহামারীর সময় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। তখন তাদের সহযোগিতার জন্য কাশফিয়া কাওসার মীম প্রতিষ্ঠা করেন মেন্টাল হেলথ কেয়ার। সে বছর ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। মীম বর্তমানে সংগঠনটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটি পরিচালনার জন্য রয়েছে ১৫ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন মেন্টাল হেলথ প্রফেশনাল, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, ডাক্তার, শিক্ষকসহ বিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা। যাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মেন্টাল হেলথ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা কাশফিয়া কাওসার মীম জানান, ‘শিক্ষানবিশ সময়কালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হীনম্মন্যতা, একাকিত্ব ও স্ট্রেস দেখে তাদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা জাগে। শুরু করি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ।’

মেন্টাল হেলথ ১৩-১৯ বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করে। তারা কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরেন। প্রতি মাসেই অনলাইন এবং অফলাইনভিত্তিক স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মশালার আয়োজন করে। আছে অনলাইনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সারা বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মেন্টাল হেলথ কেয়ারের প্রশিক্ষণমূলক ক্লাসগুলোতে যুক্ত হতে পারে।

বর্তমানে মেন্টাল হেলথ কেয়ারের পাঁচটি সক্রিয় শাখায় প্রায় দুইশ স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীদের সরাসরি মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এ ছাড়াও অনলাইনে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

এই কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তারা। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে স্বীকৃত দিয়েছেন তাদের কাজের। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে Healthy Life USA, Save the Tomorrow, Youth Network Center, Dreams on the Way, Women Peace Cafe ইত্যাদি সংগঠন অন্যতম। মেন্টাল হেলথ সেন্টার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থী ও সাংগঠনিক সদস্যরা প্রতি মাসে নির্ধারিত চাঁদা দেন, তা দিয়েই সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মীম জানান, মেন্টাল হেলথের কার্যক্রমকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সব কিশোর-কিশোরীর সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রেরক ফাউন্ডেশন

জীবন যে বদলে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তে, আপাত ব্যর্থতাও সফলতায় রূপান্তরিত হতে পারে তারই দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে প্রেরক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শফিক আহমেদ ভুঁইয়া। করোনা মহামারীর সময়ে ক্যারিয়ার নিয়ে বিষন্নতায় ভুগতেন। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। এরপর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে (২০২১) প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রেরক ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটি এখন অনলাইন ও অফলাইনে তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করছে।

প্রায় ১০৭৩ জনের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়ে কাজ করে প্রেরক। এই স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে হটলাইনে ওয়ান টু ওয়ান সেবা দিয়েছেন ২৩৭০ জনকে। স্বেচ্ছাসেবকরা তিনটি দলে বিভক্ত। একটি দল আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করে, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে গবেষণা করে। তাদের বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের কাছে। তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক দল। আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে প্রেরকের।

আলোর মুখোমুখি : এই কর্মসূচিতে আত্মহত্যার মুখ থেকে ফিরে আসা বা আত্মহত্যা করা পরিবারের কোনো সদস্য তরুণদের মুখোমুখি হন। আত্মহত্যার চেষ্টাকারী বা আত্মহত্যার ফলে স্বজন হারানো ব্যক্তি যখন নিজেদের ব্যথা তুলে ধরেন তখন সহজেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে পারেন তরুণরা।

প্রেরয়িতা : প্রেরয়িতা হলো উন্মুক্ত পাঠাগার। জ্ঞানের আলোয় নিজেকে ধ্বংসের মতো অজ্ঞানতাকে দূর করাই প্রেরয়িতার লক্ষ্য। দেশের প্রতিটা অঞ্চলে এই উন্মুক্ত পাঠঘর ‘প্রেরয়িতা’ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রেরকের। ইতিমধ্যে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় স্থাপিত হয়েছে ‘প্রেরয়িতা’।

Ice Breaking Session  : মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো নানা নেতিবাচক ধারণা আছে। আইস ব্রেকিং সেশন মূলত ওয়ার্ম আপ সেশন। মূল সেশনগুলোর সঙ্গে তরুণদের কানেক্ট করে। এই কর্মসূচিতে আবার তিনটি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত।

Thinking Out of The Box  : জীবনে চলার পথে বিভিন্ন হতাশার সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে গ-ির ভেতরে চিন্তা করা। সমাধানের জন্য তাদের তাই চিন্তা করতে হবে গতানুগতিক সীমার বাইরে। এই সেশনে তরুণদের গতানুগতিক ধারার বাইরে ভাবতে অনুপ্রাণিত করা হয়।

Wrong Decision  : হতাশার আরেকটি বড় কারণ হলো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। জীবনে অনেক সময় না জেনে না বুঝে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তরুণ-তরুণীরা। তখন তারা হতাশায় ভোগে। কোনো সিদ্ধান্ত কীভাবে নিতে হয়, তা নিয়েই আলোচনা করা হয় এই সেশনে।

Life is Beautiful : জীবন সুন্দর। হতাশায় ভুগে মানুষ সেটা দেখতে পারে না। কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জীবনের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে হবে, বুঝতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তকে কীভাবে সুন্দরভাবে সাজানো যায় তা শিখতে হবে। এই সেশনে জীবনের সৌন্দর্যকে আবিষ্কারের সূত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তাই এই সেশনের নাম লাইফ ইজ বিউটিফুল।

ভবিষ্যতে আরও কিছু কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রেরকের। প্রেরক দেখেছে, আত্মহত্যাকারীদের একটি বড় অংশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মান-অভিমানের কারণে। এর পরিমাণ ২৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তাই বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব নিরসনের উপায় নিয়ে একটি কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রেরকের। প্রেরকের অ্যানালাইসিস টিম দেখেছে, গত বছরে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ২৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। আবেগিক সম্পর্ককে কীভাবে সামলে নিয়ে জীবনের কঠিন পথ চলতে হবে সে বিষয়েও একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে প্রেরক।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় সবাই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়লেও অনেকে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেন। সাইবার বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে। নিরাপদে অনলাইনের ব্যবহার নিয়ে, সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধেও একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করবে প্রেরক। অনেকে স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে সেলফ স্ক্রিনিংয়ে ভুগছে, যার একটা অংশ আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছে। সেলফ স্ক্রিনিং নিয়েও প্রেরকের কর্মসূচি থাকবে।

প্রেরক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সদস্যদের চাঁদায় পরিচালিত এর বিভিন্ন কার্যক্রম। নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই। প্রয়োজন অনুসারে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা চাঁদা দিয়ে থাকেন।

তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি

প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে তিতুমীর কলেজে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংগঠন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যামূলক সংগঠনের অভাব অনুভব করেন মহাবিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হোসাইন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি।

শুরুর গল্প জানতে চাইলে নাঈম হোসাইন জানান, সাইকোলজিতে যখন ভর্তি হই তখন থেকেই পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই মেন্টাল হেলথ বিষয়ে নানা প্রশ্ন করত। আর মেন্টাল হেলথ নিয়ে আমরা (সাধারণ মানুষ) ঠিকঠাক জানিও না। এমনকি আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেন্টাল হেলথ নিয়ে ট্যাবু রয়েছে। যেহেতু আমাদের ক্যাম্পাসে আমরা সাইকোলজি পড়ছি, তাই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তাগাদা অনুভব করতাম। মনে হলো, এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারপর তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করলাম। সেখান থেকেই মূলত শিক্ষার্থীদের মেন্টাল হেলথ নিয়ে কাজ শুরু করলাম সাংগঠনিকভাবে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে এর আগে থেকেই চেষ্টা করছিলাম যারা হেল্প চাইত হেল্প করার।

সংগঠন গঠনের প্রচেষ্টা অবশ্য চলছিল ২০১৯ সাল থেকে। কিন্তু করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় সব প্রচেষ্টা। করোনাকালে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে তখন বুঝতে পারেন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি সংগঠনের কি ভীষণ প্রয়োজন। অবশেষে ২০২২ সালের মার্চ মাসে তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি সংগঠন তৈরিতে সফল হন নাঈম হোসাইন। সংগঠনটি অবশ্য ক্যাম্পাসে আত্মপ্রকাশের অনুমতি পায় ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর।

সংগঠন পরিচালনার জন্য রয়েছে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী পরিচালনা কমিটি। বর্তমান কমিটিতে একজন মডারেটর ও উপদেষ্টাও রয়েছেন। এ ছাড়া সাংগঠনিক কাজ ও নিয়মিত এক্টিভিটিসগুলোকে পরিচালনা করতে এক্টিভিটি টিম লিডার রয়েছেন। নাঈম হোসাইন প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি নতুন সংগঠন হিসেবে বর্তমানে তারা সেবা দেওয়ার চেয়ে সচেতনতা তৈরিতে বেশি নিয়োজিত আছে। এ উদ্দেশ্যে তারা নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করছেন। এর পাশাপাশি তাদের রয়েছে ৪ জন সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড (পিএফএ) এক্সপার্ট। তারা নিয়মিত অনলাইনে সেবা দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন ৩১ জন স্বেচ্ছাসেবক।

গত এক বছরে তারা হটলাইনে মোট ৭১ জনকে আত্মহত্যা থেকে নিবৃত্ত করেছেন। তিতুমীর সাইকোলজি সোসাইটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, কলেজের সব শিক্ষার্থীকে তাদের সেবার আওতায় আনা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শক্ত মনোবলের সুস্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তারা শুধু যে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদেরই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন তা নয়, যে কেউ তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারে।

তারা নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করে থাকেন। এজন্য যে অর্থ ব্যয় হয় তা সদস্যরা বহন করে থাকেন। কখনো কখনো অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রবেশ মূল্য নেওয়া হলেও তা ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ টাকার মধ্যেই সীমিত থাকে। উদ্বৃত্ত অর্থ সবটাই সংগঠনের ব্যয়ের জন্য রেখে দেওয়া হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বাধা

আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য আজও ট্যাবু হিসেবে মনে করা হয়। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাংলাদেশে এখনো অনেক কুসংস্কার প্রচলিত। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করায় তেমন সমস্যা না থাকলেও হাসিঠাট্টা করে অনেকে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তাই সংগঠকরা নানা বিপত্তির সম্মুখীন হন। একদিকে আত্মহত্যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে, অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য গুরুত্ব না দেওয়ায় আক্রান্তরা সাহায্যও চাইতে পারে না। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে দেশের অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীরা এখন অনেক উন্নত চিন্তা ধারণ করে। তারা বিশ্বাস করে শরীরের মতো মনের পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে। তারাই মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে আসছে। তারা অবিশ্রান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত