সামান্য বৃষ্টিতেই পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এ সময় এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচলের মতো অবস্থা থাকে না। বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয়দের। বরগুনার তালতলীর বড় আমখোলা এলাকার এই পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার পাকা করার দাবি অনেক আগে থেকে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। তবে সেটির বাস্তবায়ন না হওয়ায় কাঁচা সড়কে ধানের চারা রোপণ করেছেন এলাকাবাসী।
আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড় আমখোলা এলাকায় ওই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের এত বছর কেটে গেলেও উপজেলার সোনাকাটা ও বড়বগী ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের বড় আমখোলা থেকে কবিরাজপাড়া বাধঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলা সত্ত্বেও তারা এই রাস্তাটি যেন চোখে দেখেন না। এই সংযোগ সড়ক দিয়ে উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই। প্রায় হাঁটু সমান কাদা দিয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার সব মানুষের। বছরের প্রায় পাঁচমাস ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই ধান রোপণ করে প্রতিবাদ জানায় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, বৃষ্টির দিনে জুতা হাতে নিয়েই পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার কাদা পার হয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা পণ্য বাজারজাত করতে পারে না। কয়েক যুগ কেটে যাচ্ছে, কিন্তু রাস্তার কোনো উন্নয়ন নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আসে-যায়, কিন্তু রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয় না। ভোটের সময় আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তা ভুলে যান। আমাদের ভোগান্তি রয়েই যায়।
সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরাজী ইউনুচ বলেন, রাস্তাটি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমি মাটির কাজ করিয়েছি। পাকা করার জন্য জোর তদবির চালাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই রাস্তাটি পাকা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য আগামী অর্থবছরে ওই রাস্তা পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
