ঘুষ নেয়ায় পূবাইল থানার ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:১৩ পিএম

৯৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পূবাইল থানার পুলিশের এক এএসআই ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের জিএমপি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন এএসআই গোলাম সারোয়ার ও কনস্টেবল আকরাম হোসেন।

জিএমপি গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাকসুদুর রহমান তদন্ত করে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পান। পরে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

জিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রবিবার ভোরে নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরাবাদ পশ্চিমপাড়া থেকে তিন সহযোগীসহ জিপো রহমান রিপন (২৯) নামে এক যুবককে ১১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে পূবাইল থানায় নিয়ে যায় এএসআই গোলাম সারোয়ার ও কনস্টেবল আকরাম। মাদক মামলার পরিবর্তে পরদিন তাদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর শর্তে রিপনের স্ত্রীর নাজমা বেগমের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা নেন ওই দুই পুলিশ সদস্য। তিনজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারার প্রসিকিউশন মামলায় দিলেও রিপনকে উদ্ধারকৃত ১১ বোতল ফেনসিডিলের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তিনজনের জামিন হলেও বিচারক জেলে পাঠান রিপনকে। স্বামী জেলে যাওয়ায় ঘুষের বিষয়টি ফাঁস করে দেন নাজমা বেগম।

রিপন নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানার ব্রহ্মপুর গ্রামের সাজু প্রামাণিকের ছেলে এবং পূবাইলের হায়দরাবাদ পশ্চিমপাড়ার মুন্নি বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অন্য তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি।

রিপনের স্ত্রী নাজমা জানান, ঘটনার দিন রিপন ছোট ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য মায়ের দেওয়া ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নাটোর থেকে হায়দরাবাদের বাসায় ফিরছিল। যানজটের কারনে পথে আটকা পড়েন। রবিবার ভোরেও না ফেরায় কল দিয়ে রিপনের মোবাইল বন্ধ পান। দুপুরে গ্রেপ্তারের ঘটনা জানিয়ে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে থানায় যেতে বলেন রিপন। রাতে বাড়ির মালিক মুন্নি বেগমসহ থানায় গিয়ে স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৪৫ হাজার টাকা দেন। রিপনের সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকা আগেই নিয়ে নেন দুই পুলিশ সদস্য। কিন্তু টাকা নিয়েও স্বামীকে মাদক মামলায় আসামি করেছেন এএসআই।

জিএমপি গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাকসুদুর রহমান জানান, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তিনি ঘটনাটি তদন্ত করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত