অন্ধকার রাঙ্গামাটিতে যাবে সৌরবিদ্যুৎ, সুপেয় পানি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:২৬ এএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই, নেই বিশুদ্ধ খাবার পানিও। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতায়ন করাও কঠিন। তাই সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল আলোকিত হবে। একই সঙ্গে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করবে সরকার। এ জন্য ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এ জন্য সৌরশক্তিচালিত নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎবিহীন প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে রাঙ্গামাটির পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির একটি পাইলট প্রকল্প। এটি সফল হলে চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি জেলার সব উপজেলার বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যৎবিহীন এলাকায় বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের কিছু ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পটির একেকটি ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এ ব্যয় খুব বেশি বলে প্রতীয়মান হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে। এই ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটিতে ৭০০ নলকূপ বসানোর কথা রয়েছে। একেকটি নলকূপ স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এটিকেও অস্বাভাবিক বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যৎবিহীন এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা খুবই অপ্রতুল। এ কারণে বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় জনগণের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্তির এ উন্নয়ন প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় সৌরশক্তিচালিত গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশনব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে আলোচ্য প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে। সভায় ব্যয় কমানোসহ বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পিইসি সভা সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তা যৌক্তিকীকরণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পানির স্তর কমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যৌক্তিক হবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব প্রদান করছে। কিন্তু রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্যান্য জেলার তুলনায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন-সংক্রান্ত চাহিদা মেটাতে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে, সুযোগ-সুবিধাও খুবই অপ্রতুল। স্থানীয় জনগণ বিচ্ছিন্নভাবে পাহাড়ে অনেক দূরে দূরে বসবাস করায় বাড়িঘরগুলোও পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত। কিন্তু পাহাড়ের ওপরে নলকূপ খনন সফল না হওয়ায় পাহাড়ের নিচে নলকূপ খনন করে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওযায় হস্তচালিত নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন খুবই কষ্টসাধ্য এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পাওয়া যায় না। এসব কারণে দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় জনগণ। 

এ ছাড়া, জেলাটিতে কিছু পাবলিক টয়লেট থাকলেও বিদ্যুৎবিহীন এলাকাগুলোয় সার্বিক স্যানিটশেন ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। তাই বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সোলার সাবমারসিবল পাম্পচালিত গভীর নলকূপসহ কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্তি অনেকটা সহজ হবে। এসব কারণে প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৭০০টি সোলার সাবমারসিবল পাম্প, ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, ওভারহেড স্ট্রাকচারসহ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে, এ জন্য ডিপিপিতে ৩৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ৯০টি সোলার সাবমার্সিবল পাম্পচালিত গভীর নলকূপসহ কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হবে। এ কাজে  ১০ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত