কালজয়ী সিনেমা ‘ঘুড্ডির’ নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী (৭৭) আর নেই। গত সোমবার রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সালাহউদ্দিন জাকীর মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক অপূর্ব রানা। গুণী এ নির্মাতার মৃত্যুতে গভীর শোক এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, কাহিনিকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও লেখক সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন।
সালাহউদ্দিন জাকীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায়ও ধানম-ির বাসায় ছিলেন জাকী। সব ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। রাত ১০টার পর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুজনেই কানাডা প্রবাসী। তারা দেশে ফেরার পর দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
নির্মাতা পরিচয়ের বাইরেও সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী কাহিনিকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ঘুড্ডি’ দিয়ে দর্শকদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও মন জয় করেন তিনি। ‘ঘুড্ডি’ সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এই সিনেমায় কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা ও হ্যাপি আখান্দের গাওয়া ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
সালাহউদ্দিন জাকী সম্প্রতি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় দুটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেন। একটি ‘অপরাজেয় একা’ অন্যটি ‘ক্রান্তিকাল’। তবে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ইচ্ছেমতো ছোটাছুটি করতে পারতেন না সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী। মন চাইলে যখন-তখন শুটিংয়েও যেতে পারতেন না। তার পরও তাকে দমানো যায়নি। হুইলচেয়ারে বসেই ক্যারিয়ারের ৭ নম্বর চলচ্চিত্রটি বানান ‘ঘুড্ডি’খ্যাত নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী। ‘অপরাজেয় একা’ সেই নামের ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
‘লাল বেনারসি’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন জাকী। নব্বই দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
