নরসিংদীর শিবপুরে কামরাব উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিতির জন্য ২০০ বার কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দেন শিক্ষক। জয়া নামে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী ৬১ বার উঠবস করার পর অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সহপাঠীরা মাথায় পানি ঢেলে তাকে সুস্থ করে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জয়ার মামা মো. মহসিন মিয়া কামরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান ও কম্পিউটার অপারেটর আসিফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ঘটনাটি গত রবিবার দুপুরের। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কামরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জয়া জ্বরের কারণে তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। রবিবার জয়ার জ্বর কিছুটা কমলেও পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই সকালে সে স্কুলে আসে। ওইদিন প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামানের নির্দেশে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আসিফুল ইসলাম গণিত বিষয়ে পাঠদানের জন্য আসেন। তিনি হাজিরা নেওয়ার সময় দেখেন জয়া তিন দিন অনুপস্থিত। তখন জয়া জ্বরের কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারেনি বলে জানায়। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে ২০০ বার কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দেন। সঙ্গে প্রতিদিনের জন্য ১০ টাকা জরিমানা করেন। জয়া ভয়ে কান ধরে উঠবস করা শুরু করে। তবে ৬০ বার উঠবস করে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কথা জানালে কম্পিউটার অপারেটর আসিফুল ধমক দিয়ে আরও পাঁচবার, মোট ২০৫ বার উঠবস করার জন্য বলেন। তখন সে আবার উঠবস শুরু করতেই অচেতন হয়ে পড়ে যায়। পরে তার সহপাঠীরা মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে।
মহসিন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে দুদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাইনি। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বলেন, অসুস্থ বলার পরও ওই শিক্ষার্থীকে কানে ধরে উঠবস করার নির্দেশ দেওয়া আসিফুল ইসলামের ঠিক হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পরই আমি শাস্তি হিসেবে তাকে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রেখেছি, বলেছি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে আসতে। যত দূর জানি, তিনি গতকাল সন্ধ্যার দিকে দুঃখপ্রকাশ করেও এসেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, অসুস্থ ছাত্রীকে ২০০ বার কানে ধরে উঠবস করানোর একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
