গুলিবিদ্ধ ভুবনের জ্ঞান ফেরেনি তিন দিনেও

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০৪ এএম

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছে পুলিশের একাধিক দল। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এ হামালার ঘটনায় গুরুতর আহত ভুবন চন্দ্র শীলের জ্ঞান ফেরেনি তিন দিনেও। চিকিৎসকদের মুখে আশার কথা শুনতে প্রহর গুনছে তার পরিবার।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ ওরফে মামুনকে টার্গেট করে করা এ হামলায় কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের হাত রয়েছে। এখন সন্ত্রাসী মামুন পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন। ফলে ইমনের নিয়ন্ত্রণে থাকা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মামুনের বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুন এক সময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁওয়ের অন্ধকার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় কারাগারে থাকলেও প্রায় তিন মাস হলো মামুন জামিনে বের হন। এরপর ওই এলাকাগুলোর একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ইমন তাকে হত্যা করে এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ তার লোকদের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন। যদিও এ নিয়ে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই দুজনের বিরোধ ছিল।

এদিকে আরেক শীর্স সন্ত্রাসী খোরশেদ আলম রাসু গতকাল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বের হওয়ার পর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। শোনা যাচ্ছে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে তার বিষয়ে কথা বলতে কেউ রাজি হয়নি।

এদিকে এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আইনজীবী ভুবনের এখনো জ্ঞান ফেরেনি। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সেখানে আছেন তার স্ত্রীসহ স্বজনরা। তার চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গতকাল তার স্ত্রী রতœা রানী শীল বলেন, আমার স্বামীর জ্ঞান ফেরেনি। ডাক্তাররা কোনো আশার কথা জানাতে পারছেন না। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। আমাদের সঙ্গে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি।

গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্প এলাকার সিটি পেট্রোলপাম্প ও বিজি প্রেসের মাঝামাঝি সড়কে এক দল সন্ত্রাসী চারটি মোটরসাইকেলে এসে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুনের প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় প্রাইভেট কার থেকে মামুন ও তার দুই সহযোগী মিঠু ও খোকন নেমে পড়েন। তখন সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মামুনের পিঠ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ভুবন চন্দ্র তখন ওই পথ দিয়ে মোটরসাইকেলে আরামবাগ যাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসীদের করা গুলি গিয়ে লাগে ভুবনের মাথায়। তাৎক্ষণিক তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। পরে ওই রাতেই তাকে ধানম-ির পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত