নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধ গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বাসায় বিস্ফোরণে দুই নারী নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার মধ্য রাতের ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও দুজন। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানা ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহত দুর্ঘটনার পরই কানিজ খাদিজা নিপা (২৫) ও তার মা হাসিনা মমতাজ (৫৫) এবং জিয়াউর রহমান সোহান (৪৫) ও তার স্ত্রী চায়না আক্তার সায়েমাকে (৩৫) হাসপাতালে আনা হয়। শনিবার সকালে খাদিজা নিপা মারা যান। আর দুপুরের দিকে মৃত্যু হয় চায়না আক্তার সায়েমার।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম জানান, নিপার শরীরে ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। চায়না আক্তার সায়েমার শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়েছিল। এ ছাড়া হাসিনার শরীরের ৫৫ শতাংশ এবং সোহানের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
নিহত নিপার বোন ইভা ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি উপজেলার গোপালদী পৌরসভার লম্মীবরদী গ্রামে। তাদের বাবার নাম কেশর মোল্লা। ইভা বলেন, আমার বোন কানিজ খাদিজা নিপা আড়াইহাজার পৌরসভার দিঘিরপাড় এলাকার সরকারি সফর আলী কলেজের পূর্বপাশে ছানাউল্লাহ নামে এক ব্যক্তির চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একাই থাকত। ফকির ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করত। পাশের রুমে থাকত একই কারখানার সুপারভাইজার জিয়াউর রহমান সোহান ও তার স্ত্রী চায়না আক্তার সায়েমা। গত শুক্রবার মা ও আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম। মা রাতে সেখানে ছিলেন। আমি রাতের খবর খেয়ে চলে আসি। পরে রাতে আগুন লাগার খবর পাই। গিয়ে দেখি আমার মা, বোন ও তাদের পাশের রুমের পোশাক কারখানার সুপারভাইজার সোহান মিয়া ও তার স্ত্রী সায়েমা আক্তার আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। রাত আড়াইটায় ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শাজাহান হোসেন বলেন, আমরা ধারণা করছি ওই ফ্ল্যাটে গ্যাসের লিকেজ ছিল। ওই সময় কেউ একজন মোবাইল চার্জ দেওয়ায় বৈদ্যুতিক স্পার্ক হলে জমে থাকা গ্যাসের মাধ্যমে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।
ওই ভবনের দোতলার ভাড়াটিয়া জাকির হোসেন জানান, রাত ১১টার দিকে বিকট শব্দ পেয়ে প্রথমে মনে করেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে দেখি চারতলায় আগুনের ধোয়া। তখন বুঝতে পারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ওই ভবনটিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। গ্যাস লিকেজ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে কী কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে তার পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
