ডলার কারসাজি

জরিমানার মুখে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধান

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৩ এএম

ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করায় বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার এসব ট্রেজারিপ্রধানকে জরিমানা করে চিঠি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ডলারের দাম ঘোষণা দিয়েছে এক, করপোরেট গ্রাহকের কাছে নিয়েছে আরেক দাম। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিদর্শনের পর ১০টি ব্যাংক ঘোষাণার চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রির প্রমাণ পায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপর ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর ব্যাখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেশি দামে ডলার লেনদেনে ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান তার দায় এড়াতে পারেন না বলে একটি চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ওই চিঠিতে যথাযথ ব্যাখ্যা না পেয়ে গত বুধবার ১০টি ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ডলার বেচাকেনায় কারসাজির সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যাংকের মধ্যে প্রচলিত ধারার ৭টি ও ইসলামি ধারার ৩টি ব্যাংক রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা ব্যাংকগুলোকে শোকজ করা হয়। শোকজের সন্তুষ্টিমূলক ব্যাখ্যা না পাওয়ার কারণে ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯(৭) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়। ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংকের টাকা ও ডলারের চাহিদা-জোগানের বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে। কোনো কোনো ব্যাংকে ট্রেজারি বিভাগের প্রধান পদে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে একই অভিযোগে গত বছর আগস্টে একসঙ্গে দেশি-বিদেশি ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারেনি তারা।

যে কারণে এ ব্যবস্থা : বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ডলারের দাম নির্ধারণ করছে। পণ্য বা সেবার রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রের ডলারের নতুন দাম ১১০ টাকা। অন্যদিকে আমদানিকারকদের কাছে এখন ১১০ টাকা ৫০ পয়সা ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক প্রতি ডলারে ১১৪-১১৫ টাকা দাম নিচ্ছে। কারণ প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। না হলে ঋণপত্র খুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, খাদ্যপণ্যের দাম কেন বাড়ছে, এর ব্যাখ্যা দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক একটি শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তাদের আমদানি ব্যয় উল্লেখ করে একগুচ্ছ নথিপত্র জমা দেয়। পরে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক দল অভিযুক্ত ব্যাংকগুলোর শাখা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। এতে ঘোষণার চেয়ে ডলারের দাম বেশি নেওয়ার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণও মেলে। এরপরই ৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বছর দেড়েক ধরে চলা ডলার-সংকট এখনো কাটেনি। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। আমদানিকারকরা বলছেন, তারা চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছেন না। খোলা বাজারেও নগদ ডলারের সংকট চলছে। সেখানে প্রতি ডলারের দাম উঠেছে ১১৮ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত