রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সহায়তাদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের কাছ থেকেই মূলত সিংহভাগ সামরিক সহায়তা পেয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের জন্য কোটি কোটি ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের নিজের পকেটে এবার টান পড়েছে। অর্থসংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশের সরকারি কার্যক্রমগুলো সম্প্রতি একেবারে মুখ থুবড়ে পড়া বা শাটডাউনের মুখেও পড়ছে। চরম এ পরিস্থিতি এড়াতে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের সমঝোতায় আপাতত দেশটির কংগ্রেসে আগামী ৪৫ দিনের জন্য সরকারি কাজ চালিয়ে নেওয়ার তহবিল অনুমোদন দিয়ে একটি বিল পাস হয়েছে। কিন্তু এ বিলে কিয়েভকে সহায়তার প্যাকেজ নেই। ইউক্রেনের জন্য প্রতিশ্রুতির ৬০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত না করা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা, যা হোয়াইট হাউজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, দেশটির জন্য বাজেট কমিয়ে আনছে কি না ওয়াশিংটন।
প্রধান মিত্রের এমন হাত গুটিয়ে নেওয়া ভালোভাবে নিতে পারেননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিলের নাম না নিয়ে ইঙ্গিতে তিনি গত রবিবার বলেন, ‘কিছুই রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার দেশের লড়াইকে দমিয়ে দিতে পারবে না। ইউক্রেনে স্থিতিশীলতা কেউ চাইলেই “শাটডাউন” করে দিতে পারবে না।’
জেলেনস্কির এমন প্রতিক্রিয়ায় পরম মিত্র বাইডেন আর চুপ থাকতে পারলেন না। তাই নিজ দেশের চরম বৈরিতার মধ্যেও বাইডেন ইউক্রেনের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শাটডাউন এড়াতে দেশটির কংগ্রেসে পাস হওয়া বাজেট চুক্তিতে ইউক্রেনকে আরও সামরিক তহবিল দেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়ার পর তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিলেন।
বিবিসি বলছে, কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা ইউক্রেনে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। অনেকে আবার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিরোধিতাও করছেন। এ পরিস্থিতিতেই রবিবার ইউক্রেনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন বাইডেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর ‘বিশ্বাস রাখতে পারে’। আমরা কোনো অবস্থাতেই ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে বাধাগ্রস্ত হতে দিতে পারি না।
ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটিক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি (ইউক্রেনকে) আশ্বস্ত করতে পারি আমরা তাদের পাশে থাকব। আমরা সেখানে আমাদের কাজ সম্পন্ন করব। আমি আমাদের আমেরিকান মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চাই... আপনারা আমাদের সহায়তার ওপর ভরসা করতে পারেন, আমরা সরে যাব না।’
বিবিসি বলছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউক্রেনের জন্য আরও ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড় করার অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আব্রামস ট্যাংক। বর্তমানে এসব সরঞ্জাম দিয়েই রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া ইউক্রেনের দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরগতিতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের জন্য ‘সহায়তার প্রবাহ পরিবর্তন হবে না’ এবং ৩০০ কোটি ডলারের মানবিক ও সামরিক সহায়তা শিগগিরই আসতে চলেছে। তবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে ‘চলমান কর্মসূচি’ প্রভাবিত হতে পারে বলে ইউক্রেনীয় এ মন্ত্রণালয় স্বীকার করে নিয়েছে।
