উজানের ঢলে দ্রুত তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বাংলাদেশ অংশের রংপুরসহ ৫ জেলায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সে. মি. ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা থাকায় রংপুর জেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা পারের মানুষদের সতর্ক করতে মাইকিং করছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। বন্যার খবর শোনার পর থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে আগাম জাতের আমন ধান কেটে তিস্তার চরে রেখেছিল কৃষকরা। এরইমেধ্যে পানি চলে আসায় চর থেকে ধান সরিয়ে নিচ্ছে চাষীরা ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি কাটতে না পারা আমন ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (সিডাব্লিউসি) জানায়, ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণে তিস্তা নদীতে দ্রুত গতিতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিকিম এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এবং রংপুর অঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, তিস্তার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি হতে থাকলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, ভারতের উত্তর সিকিম এ তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২০ মিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে দুপুর ১২টায় একই পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ মিটার ৩৯ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। বুধবার রাত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫০ সে.মি. উপর পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পাউবো। অন্যদিকে তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টের বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী সমতল ২৮.২৮মি. (বিপদসীমার ৪৭ সে.মি. নিচে) যা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ভোর নাগাদ বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্তকতা জারি করেছে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রসাশন। তিস্তাবেষ্টিত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ সর্তকীকরণ মাইকিং করে তিস্তা তীরবর্তী ও নিমাঞ্চলের বসবারত মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
নদীপাড়ের মানুষজন জানান, পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় শঙ্কায় চিন্তিত তিস্তাপাড়ের মানুষ। চলতি মৌসুমে কয়েক দফায় বন্যা হলেও তা বেশি সময় স্থায়ী ছিল না। মৌসুমের শেষদিকে বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন নদী পাড়ের মানুষ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ডালিয়া পাউবো জানিয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, তিস্তাপাড়ের বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, তিস্তা অববাহিকায় স্বল্প মেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
