মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মওসা মারা বলেছেন, পৃথিবীতে জোটবদ্ধতা কমে যাচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো।
তিনি বলেন, কিছু কিছু দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যারা অন্য দেশগুলোতে তাদের প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চায়না ও আমেরিকা। তারা নিজেদের মতো করে বিভিন্নভাবে অন্য দেশগুলোকে তাদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’–এর ৩ দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৯টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিজিএসের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত অতিথিরা।
মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাউসা মারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাগর এবং আকাশসীমার পাশাপাশি মহাকাশেও প্রতিযোগিতায় লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তাদের এই দ্বৈরথ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাই ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই পরাশক্তির এই প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির স্বার্থে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভারসাম্যকে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে, নানা ধরনের সংস্থা এবং উদ্যোগের মাধ্যমে প্রভাব খাটায়। ন্যাটো, জি-২০ এবং ব্রিকস এসব প্রভাবের উদাহরণ। তাদের মধ্যে বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতা চলতেই থাকবে। যে প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক—সব পরিমণ্ডলে।
সিজিএসে বিশ্বের কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান বলেন, পৃথিবীতে যুদ্ধের কারণে বহু দেশ বিভক্ত হচ্ছে। এটা খুবই ভয়ের যে শান্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো আশা ও সুযোগ আছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ইন্দো প্যাসেফিক ইস্যুগুলো আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
সিজিএসের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশসহ ইন্দো প্যাসেফিকের দেশগুলো যেসব সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো এই সম্মেলনে দৃষ্টিগোচর করা হবে। মূলত ভারতীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হবে বিভিন্ন অধিবেশনে।
বাংলাদেশে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে—এটা একটি অপতথ্য বা ডিজইনফরমেশন বলে মন্তব্য করেছেন নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর।
নূরুল কবীর বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র রয়েছে বা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ বলাটা সবচেয়ে বড় ডিজইনফরমেশন। গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন করছে বলা হচ্ছে, কিন্তু এটা ডিজইনফরমেশন। কারণ, সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে, মানুষের ভোটের মাধ্যমে এ সরকার নির্বাচিত হয়নি। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হয়নি।’
ডিজইনফরমেশনের উদাহরণ টেনে নূরুল কবীর বলেন, ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে দেশটিকে আক্রমণ করা এবং এর কারণে বহু মানুষ হতাহত হওয়া সম্প্রতি সময়ে ডিজইনফরমেশনের নিকৃষ্টতম উদাহরণগুলোর একটি।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এটি সিজিএসের দ্বিতীয় সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৭৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন পেশার ২০০ জন গুরুত্বপূর্ণ বক্তা উপস্থিত থাকবেন। তিন দিনে সম্মেলনে ৫০টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
