ভাইয়ের ঋণের জামিনদার

কিস্তি না দেওয়ায় দুধের শিশুসহ বোন হাজতে!

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২২ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরের চার মাসের শিশু তোহা আক্তার। পৃথিবীর নিষ্ঠুর হিসাবনিকাশ যার অজানা। অথচ মায়ের ‘অপরাধে’ থানা-হাজতে রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। শুধু তা-ই নয়, তার মায়ের ‘অপরাধে’ চার ঘণ্টা তার বাবাকে থানা-হাজতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মুরাদনগর ওসি আজিজুল বারী ইবনে জলিলের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে মুরাদনগর থানায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের আবদুল মোতালেবের স্ত্রী সুমি আক্তারের (২৬) ভাই দেলোয়ার হোসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) টিএমএসএসের কোম্পানীগঞ্জ শাখা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই ঋণের টাকার জামিনদার হন সুমি আক্তার। পরে সেই ঋণের কিস্তির টাকা দেলোয়ার হোসেন দিতে না পারায় জামিনদার সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় টিএমএসএস। তারই ধারাবাহিকতায় সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে মুরাদনগর থানায়। শুক্রবার বিকেলে মুরাদনগর থানার এসআই আলমগীর পরোয়ানাভুক্ত আসামি সুমি আক্তারকে না পেয়ে তার অসুস্থ স্বামীকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে এসে চার ঘণ্টা হাজতে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে সুমি আক্তার কোলের শিশু তোহাকে নিয়ে থানায় হাজির হলে ছেড়ে দেওয়া হয় তার স্বামীকে।

সুমির স্বামী আবদুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের অপরাধ করে থাকে সেটি আমার স্ত্রী করেছে। তার অপরাধে তো আর আমাকে অসুস্থ অবস্থায় চার ঘণ্টা থানা-হাজতে আটকে রাখতে পারে না? আমার শিশুকন্যা তোহা কী অপরাধ করেছে যে তাকেও সারা রাত থানা-হাজতের ভেতরে আটকে রাখতে হলো! পুলিশ চাইলে কি আমার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে থানার ভিকটিমদের রুমে রাখতে পারত না? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরু বলেন, ‘একজনের অপরাধে অন্যজনকে সাজা দিতে পারে না, শিশুদের জন্য আলাদা সেল থাকে, যদি পুলিশ হাজতে শিশুটিকে রাখে তাহলে এটা ঠিক হয়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার এসআই আলমগীর বলেন, ‘ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য সুমি আক্তারের বাড়িতে গেলে সে পালিয়ে যায়। এ সময় তার স্বামীকে দেখে নেশাগ্রস্ত মনে হওয়ায় ওসি সাহেবকে জানালে তিনি তাকে থানায় নিয়ে আসতে বলেন। পরে তার স্ত্রী থানায় এলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাকে হাজতে রাখা হয়নি, একটি রুমে রাখা হয়েছিল।’

আর মুরাদনগর থানার ওসি আজিজুল বারী ইবনে জলিল বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সুমি আক্তার ও তার শিশুসন্তানকে থানা-হাজতের ভেতরে রাখার বিষয়টি মিথ্যা। কারণ আমার থানায় কোনো নারী সেল নেই। তাকে থানার নারী ও শিশু ডেস্কে রাখা হয়েছে। আর স্বামীকে তুলে এনে চার ঘণ্টা আটকে রাখার বিষয়টিও মিথ্যা। এ ধরনের কোনো ঘটনাই মুরাদনগর থানায় ঘটেনি।’

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পীযূষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে খতিয়ে দেখতে হবে, যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত