কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহকে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আরেক আসামিকে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার নাম রেজাউল ইসলাম মাজেদ। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যদিও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় সিন্ডিকেটের এক সদস্য এই নিয়োগে লিখিত আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) জানিয়েছেন। একাধিক সিন্ডিকেট সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ১৫ মে সেকশন অফিসার পদে রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ আরও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয় নিয়োগ বোর্ড। সভায় একক কোনো প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় তিনজন প্রার্থীকে নিয়ে প্যানেল তৈরি করে বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। তবে গত ৪ অক্টোবর নিয়োগ বোর্ডের সভা বিবরণী স্বাক্ষরের জন্য বোর্ড সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরের কাছে পাঠানো হলে তিনি শুধু একজন প্রার্থীর সুপারিশ দেখতে পেয়ে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর গতকাল বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হলে সেখানেও তিনি আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) জানান। যদিও এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো সম্পন্ন হয়নি, এটিই আমার দ্বিমতের কারণ ছিল।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাজেদের বিষয়ে সভায় একটি নোট অব ডিসেন্ট এসেছে। তবে এ বিষয়ে মাইনোটস (সভা বিবরণী) এলে বিস্তারিত বলা যাবে।’
রেজাউল ইসলাম মাজেদ কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে নিহত হন কুবির কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাজেদ। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ছাড়াও নিজ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর, বিভিন্ন সংগঠনের কাজে হস্তক্ষেপ, উপাচার্যের গাড়ি রোধসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মাজেদের নিয়োগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত খালেদ সাইফুল্লাহর মা ফাতেমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের রক্তের ওপর দিয়ে এখানে সবাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হন। প্রশাসন এখন পর্যন্ত কী করছে। একের পর এক আসামিদের চাকরি দিয়ে যাচ্ছে। তবে চাকরি হওয়ায় মাজেদ এখান থেকে সরে যেতে পারবে না। একবার না একবার তাকে আমি বিচারের আওতায় আনবই।’
এর আগেও খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার একাধিক আসামিকে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কুবি কর্র্তৃপক্ষ।
মাজেদের নিয়োগসহ সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
