সেবাপ্রার্থীদের হয়রানিতে পটু কাউন্সিলর টিপু!

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১২ এএম

কক্সবাজার পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপুর বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, প্রত্যয়নসহ বিবিধ প্রত্যয়নের জন্য গেলে নানাভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু। নানা বাহানায় প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেন না তিনি। টিপুর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেছেন একই ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার এবিসি ঘোনার মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ও তার আগে জন্মসনদের জন্য কাউন্সিলর টিপুর কাছে স্বাক্ষর আনতে যান জয়নাল। কিন্তু টিপু তাকে চেনেন না দাবি করে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। জয়নালের নেওয়া জন্মসনদের কাগজে যেমন স্বাক্ষর করেননি, তেমনি অন্য এক নারী তার মেয়েকে ভোটার করার কাগজ নিয়ে এলে সেখানেও স্বাক্ষর করেননি কাউন্সিলর টিপু। জয়নাল তখন স্বাক্ষর না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিস্বার্থে নয়, দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পৌরবাসীর সুবিধার্থে অভিযোগ করেছি। কাউন্সিলর টিপু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর নাগরিক সেবা না দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছেন। এলাকায় বসবাস করলেও সব ডকুমেন্ট দিয়েও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার না হলে তিনি নাগরিক সেবা দেন না। ধরুন আপনি এবং আপনার স্ত্রী অথবা বাবা-মা অন্য জায়গার ভোটার। কিন্তু বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। তাহলে কাউন্সিলর টিপু আপনাকে কোনোভাবেই নাগরিক সেবা দেবেন না। বিষয়টি পৌর আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিকÑ এটাই তিনি জানেন না।’

জয়নাল আরও বলেন, ‘আমি আমার দুই ভাগ্নির জন্য জন্মসনদের আবেদন করি। ওখানে আমি তাদের বাবার জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডি এবং মায়ের জন্মনিবন্ধন এবং তাদের বর্তমান ঠিকানা পাহাড়তলীর বাড়ির হোল্ডিং নম্বরের কাগজপত্র এবং টিকা কার্ড সরবরাহ করি। এসব দেখে আমার এলাকার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর জাহেদা বেগম স্বাক্ষর করেন, একই কাগজে টিপু কাউন্সিলর হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তৎকালীন প্যানেল মেয়র স্বাক্ষর করেন। পরে নতুন পরিষদ গঠিত হলে টিপুর কাছে গেলে তিনি আমাকে চিনেন না জানিয়ে স্বাক্ষর করেননি। এরপর বর্তমান প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন সেতু স্বাক্ষর করলেও টিপু পৌর পরিষদের জন্মনিবন্ধন বিভাগের কর্মচারীদের আমার ভাগ্নিদের জন্মসনদ দিতে বারণ করে দেন। পরে প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন সেতুর সহযোগিতায় আমি ভাগ্নিদের জন্মনিবন্ধন পাই। এমন ঘটনা তিনি যে শুধু আমার সঙ্গে করেছেন তা নয়, আমার চোখের সামনে অনেকের সঙ্গে করেছেন। আর এ নিয়ে আমি প্রতিবাদ করায় তিনি পৌরসভার ভেতরে এবং এলাকাতেও আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছেন।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপু। রোহিঙ্গাদের কোনো কাগজপত্রে তিনি স্বাক্ষর করবেন না এমন শপথ নিয়ে পৌর পরিষদে বসেছেন জানিয়ে বলেন, ‘যেদিন জয়নাল আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করে এবং হুমকি দেয় সেদিন জয়নাল তার নিজের কোনো কাজে আসেননি। অন্য এক নারী তার মেয়েকে ভোটার করার কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেই নারী তার স্বামীর ভোটার আইডি, কিংবা জন্মসনদ কিছুই দিতে পারছিলেন না। আমি তখন ওই কাগজে স্বাক্ষর না করায় জয়নাল আমাকে আইন শেখানো শুরু করেন। আমার সঙ্গে তুই তোকারি করেন। আমাকে আদালত চত্বরে গিয়ে আইন শিখতে বলেন। এগুলো আমি আমার পৌর মেয়রকে তাৎক্ষণিক অবহিত করি। এ ছাড়া জয়নালের আচরণ সম্পর্কে তার ছোট ভাইয়ের কাছে বিচার দিই।’

জয়নালের কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ার বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, ‘জয়নাল দুটি কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। তবে এর সঙ্গে ডকুমেন্ট না থাকায় আমি স্বাক্ষর করিনি। পৌর পরিষদে আমি দুর্নীতি করতে কিংবা টাকা কামাতে আসিনি। আমি পৌর পরিষদে এসেছি সম্মানের জন্য। আমি যতক্ষণ দায়িত্বে থাকব ততক্ষণ আমাকে দিয়ে কোনো অন্যায় কেউ করাতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত