আজ লালনের ১৩৪তম তিরোধান দিবস

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৪ এএম

‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...।’ বছর ঘুরে আবারও কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে জ্বলে উঠবে মরমি প্রদীপ। আজ মঙ্গলবার মরমি সাধক বাউল ফকির লালন শাহের ১৩৪তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে লালন আখড়াবাড়িতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুসারীরা আসতে শুরু করেছেন। গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাউল, সাধু ভক্ত অনুরাগীদের দেখা গেছে।

মরমি সাধক ফকির লালন শাহ কুষ্টিয়ার শহরতলি কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে ১৮৯০ সালের ১ কার্তিক পরলোকগমন করেন। তার পর থেকে লালন মেলার আয়োজন শুরু করে লালন একাডেমি।

এদিকে সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী লালন মেলা শুরু হচ্ছে। কালিগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে মাঠে অস্থায়ী থাকার জায়গা ও দোকান বসেছে। গতকাল লালনের আখড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে সাঁইজির গান গাইছেন। আলম সাধু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আমি এখানে এসেছি এক সপ্তাহ আগে। আমার মতো আরও ভক্ত-অনুসারীরা এখানে এসেছেন।’

মলয় সাঁই নামে এক ভক্ত বলেন, ‘কয়েকদিন আগে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেঁউড়িয়ায় এসেছি। আমরা নিজেরা এখানে রান্না ও থাকার ব্যবস্থা করেছি। লালন মেলা শেষে আমরা এখান থেকে চলে যাব।’

তিন দিনব্যাপী লালন মেলায় প্রতিদিনই আলোচনাসভা শেষে মঞ্চে শুরু হবে লালনগীতি। লালন একাডেমির শিল্পীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাউল শিল্পীরা গান গাইবেন।

লালন একাডেমির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু বলেন, ‘এবারের তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন মেলার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যে প্রতি ওক্তে ৩০ হাজার লোকের খাবার সরবরাহ করার আয়োজন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. এহেতেশাম রেজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৩৪তম লালন তিরোধান উদযাপন উপলক্ষে উৎসব-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিন দফা বৈঠক করেছি। আশা করছি অত্যন্ত সফলভাবে এই অনুষ্ঠান শেষ করতে পারব।’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব বলেন, ‘লালন মেলা উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকা নিিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও সাদাপোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন আছেন। মাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত