অবশেষে ছয়দিন পর বন বিভাগের সহায়তায় ভুবনেশ্বর নদ থেকে উদ্ধার করা হলো কুমির। গত বুধবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে পদ্মা নদীর শাখা ভুবনেশ্বর নদে এ কুমিরটি দেখা গিয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে কুমিরটি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া সেতুর নিচে থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ভয় ও সংশয়ের অবসান হলো।
এ উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী। উদ্ধারের পর কুমিরটি খুলনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এটি মিঠা পানির কুমির। এ কুমিরের দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাত ফুট। তবে প্রস্থ ও ওজন সম্পর্কে তিনি কোন ধারণা দিতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনার বয়ড়া থেকে পাঁচ সদস্যের কুমির উদ্ধার অভিযানের দলটি ফরিদপুরে আসেন। তাদের সহায়তা করেন ফরিদপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও বন বিভাগের দুই কর্মী। প্রথমে খ্যাপলা জাল দিয়ে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করা হয়। ওই জালে কুমিরটি আটকা পড়লেও বের হয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকলাকুর রহমানের (আট নম্বর) সহায়তায় সুতি জাল এনে এবং বন বিভাগের দুই কর্মী নদে নেমে কুমিরটি ধরতে সক্ষম হয়। এ সময় কুমির ধরা দেখতে শিশু, নারী পুরুষসহ শত শত উৎসুক মানুষ গজারিয়া সেতু সংলগ্ন ভুবনেশ্বর নদের পাড়ে সমবেত হয়। কুমির উদ্ধারের পর এলাকাবাসী উল্লাসে ফেটে পড়ে।
প্রসঙ্গত গত বুধবার বিকেল পাচটার দিকে চরভদ্রাসনের শিকদার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু শেখের স্ত্রী সিমা বেগম প্রথম তার বাড়ির সামনে নদীর ঘাটে কুমিরটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই স্থান হতে তিনশত মিটার দক্ষিণে লোকমান মাতুব্বরের বাড়ির সামনে এক সাকোর নীচে অবস্থান নেয় কুমিরটি। ভুবনেশ্বর নদটি চরভদ্রাসনের হাজিগঞ্জ বাজার এলাকায় পদ্মা নদী থেকে শুরু হয়ে ২৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সদরপুরের পেয়াজখালী এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের সাথে গিয়ে মিশেছে। ধারণা করা হয় এ কুমিরটি খাবারের সন্ধানে পদ্মা নদী হয়ে চরভদ্রাসনের হাজিগঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদী শাখা ভুবনেশ্বর নদে ঢুকে পড়ে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত ও নদের একশ মিটার অংশে বেড়া দিয়ে আটকে রাখা হয় গত সোমবার। আজ মঙ্গলবার বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী নেতৃত্বে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, উদ্ধারের পর কুমিরটি খুলনা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে কুমিরটি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাপারি পার্কে নেওয়া হবে নাকি খুলনার করমজল কুমির প্রজনন কেন্দে্র নেওয়া হবে।
গত বছর ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে যে কুমিরটি উদ্ধার করা হয় সেটিও ছিল মিঠা পানির কুমির। পরে ওই কুমিরটি উদ্ধার করে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ছেড়ে দেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।