মায়া ও নানককে করা হলো আন্দোলন মোকাবিলার সমন্বয়ক

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩৮ এএম

বর্তমান সরকারের পতনে বিরোধী দল বিএনপির এক দফার আন্দোলন মোকাবিলায় মাঠ দখলে রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপির কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ‘শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ’ কর্মসূচি দিয়ে চলেছে ক্ষমতাসীনরা। তবে বিএনপির কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে আগামীর আন্দোলন মোকাবিলায় পাল্টা কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করে তুলতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের শীর্ষ দুই নেতাকে। তারা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক।

দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম দেশ রূপান্তরকে জানান। তিনি বলেন, ‘মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ঢাকা দক্ষিণে এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা উত্তরের সমন্বয়কের দায়িত্বে পালন করবেন। আগামীতে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম আছে। সেখানে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সমন্বয় করার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দুজনেরই অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে, সে কারণেই তাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে বিএনপির কর্মসূচি মোকাবিলায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে আরও বেশি গতিশীল করার জন্য মায়া-নানককে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিকে জানানো হয়।

২০১৯ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সে সময় দক্ষিণের সভাপতি হন আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। আর উত্তরের সভাপতি হন শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি। সে সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও থানা কমিটি করার জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাককে দক্ষিণের ও ফারুক খানকে উত্তরের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর পরে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। তবে এখনো থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়নি। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, আন্দোলন মোকাবিলায় পাল্টা কর্মসূচিতে কর্মীদের সমাগম কম হচ্ছে।

মির্জা আজম বলেন, ‘ওনাদের (আবদুর রাজ্জাক ও ফারুক খান) কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটাতে আছেন কিন্তু এখনো সেটা হয়নি (থানা ও ওয়ার্ড)। আর আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তো সবার নেই।’

এদিকে আওয়ামী লীগের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলোর সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। কিন্তু ঢাকা মহানগরের কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি তেমন দেখা যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত