বাঁধনহারা আবোল তাবোল

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৫৩ পিএম

সবার মতো আমারও প্রিয় ছড়াকবি সুকুমার রায়। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুজ বন্ধু। তিনি লন্ডনে উচ্চতর লেখাপড়া করেছেন প্রিন্টিং বিষয়ে। বিশেষ করে সেকালে নিখুঁতভাবে ছবি ছাপার ব্যাপারে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী মহাশিশুসাহিত্যিক। সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায় বিশ্বজোড়া বাঙালি চলচ্চিত্রকার ও ফেলুদার স্রষ্টা। পুরো পরিবারই শিশুসাহিত্যপ্রেমিক। এই পরিবার ‘সন্দেশ’ নামের বিখ্যাত একটি ছোটদের পত্রিকা প্রকাশ করে বাংলা শিশুসাহিত্যকে নির্মাণ করেন। আশ্চর্য লাগে সেই সফলতার গল্প শুনতে।

সুকুমার রায় ছড়া কবিতা লিখিয়ে হিসেবে বেশি সুখ্যাত হলেও তিনি অনেক ফিচার লিখেছেন। গল্প লিখেছেন বিস্তর। হেঁশোরাম হুঁশিয়ার-এর মতো বিজ্ঞানঘেঁষা গল্প লিখেছেন। অবাক জলপান, হযবরল-এর মতো গল্প লিখেছেন। আর আবোল তাবোল এবং খাই খাই-এর মতো ছড়া লিখেছেন।

ভাবতে ভালো লাগছে, ‘আবোল তাবোল’-এর ১০০ বছর হলো। কিন্তু তার আবেদন একটুও ফুরায়নি। আমরা যে ছড়া লেখার একটু আধটু চেষ্টা করি তা আবোল তাবোল পাঠের জন্য। বইটা বাবা কিনে দিয়েছিলেন নিউ মার্কেটের ফুটপাত থেকে। কতবার যে আবোল তাবোল পড়েছি বা এখনো পড়ে থাকি তার কোনো হিসাব নাই। খেয়াল খুশির রাজা সুকুমার রায়। আজগুবি কল্পনা, হাসির ফোয়ারা বিচিত্র বিষয় তার ছড়াগুলোকে অমরত্ব দিয়েছে। প্রাবন্ধিক বুদ্ধদেব বসু এক প্রবন্ধে বলেছেন সুকুমার রায়কে হাস্যরসের কবি বলতে হবে। অন্য উপাধি দিলে কবিতার সীমানাকে ছোট করা হয়। কবি সুকুমার রায় আবোল তাবোলের ছড়ার মধ্যে অর্থহীন কথা বলেছেন। তবে তার মধ্যে অনেক অর্থ আছে। হাসির আড়ালে থাকে কান্না। সুকুমার রায়ের লেখা আজও আমাদের মনে ম্যাজিক তৈরি করে।

একটি তথ্য দিতে চাই আধুনিক ইংরেজি ছড়া লেখা শুরু হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। তার আগে ছোটদের জন্য কবিতা রচিত হতো। একই সময়ে সুকুমার রায় লেখা শুরু করেন। এবং সবার চেয়ে বিস্ময়কর লেখা লিখতে থাকেন। ছোটবেলায় পাগল হতে চেয়েছি। নিজের খেয়ালে বড় হতে চেয়েছি। আজগুবি সব কল্পনা করতে শিখেছি। কিন্তু তা কি আর হতে পারলাম? আমরা হারিয়ে যাবো। এই সময়কাল হারিয়ে যাবে। কিন্তু সুকুমার রায় মহাকালে থেকে যাবেন। তার অমর সৃষ্টি ‘আবোল তাবোল’-এর মৃত্যু নেই। শত শত বছর ‘আবোল তাবোল’ বাঙালির মনে রয়ে যাবে। আবোল তাবোল-এর কয়েকটি পঙক্তি উল্লেখ করি

আয় খ্যাপা মন ঘুচিয়ে বাঁধন

জাগিয়ে নাচন তাধিন ধিন

আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া

নিয়মহারা বাঁধনহীন।

আমরা তো সারাজীবন এই নিয়মহারা, বাঁধনহারা হতে চেয়েছি। এই অবদান সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল বইয়ের।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত