একই দিনে মারা গেলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া (৮৩) এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক অর্থ উপমন্ত্রী এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী (৭৬)। গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান মিয়া মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। এর ঘণ্টা দেড়েক আগে ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় ফখরুল ইসলাম মুন্সীর। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ৯ অক্টোবর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে শাহজাহান মিয়া ও ফখরুল ইসলাম মুন্সীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আলাদা শোকবার্তায় তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি সকালে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান মনি। তিনি জানান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য ভক্ত, রাজনৈতিক ও আইন পেশার সহকর্মী রেখে গেছেন।
মরহুম শাহজাহান পেশায় একজন আইনজীবী এবং বরেণ্য রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৯১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সপ্তম, নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সাবেক উপমন্ত্রী ও এপি গ্রুপের চেয়ারম্যান এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী স্ত্রী রাকিবা বানু, দুই ছেলে রাকিব মোহাম্মদ ফখরুল ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুলসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার ছোট ছেলে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল জানান, ৯ অক্টোবর ব্রেন স্ট্রোক করায় তার বাবাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই গতকাল ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ফখরুল মুন্সীর স্বজনরা জানান, গতকাল দুপুর ১২টায় নিজ গ্রাম দেবিদ্বার উপজেলার বনকুটে প্রথম, বাদ জোহর দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দীন মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়েছে। বাদ আসর সংসদ ভবন এলাকায় তৃতীয় জানাজা এবং বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে চতুর্থ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফখরুল ইসলাম মুন্সী ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হন। একই সময় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এরশাদ সরকারের নৌ-পরিবহন ও অর্থ উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
