নেতাকর্মীরা বসে যাবে, এটা সরকারের অপপ্রচার : ফখরুল

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৫৩ এএম

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। এমনটি জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহাসমাবেশে ‘নেতাকর্মীরা রাস্তায় বসে পড়বে’ বলে ক্ষমতাসীনরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সংকট উত্তরণে সংসদের চলতি অধিবেশনে “নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার”ব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে সরকারি দল উদ্যোগ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। অন্যথায় দেশে অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারকে সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে।’ গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ সফল করতে দলের অঙ্গসংগঠন এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

যৌথ সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র বলছে, মহাসমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে পর্যাপ্ত কর্মী-সমর্থককে ঢাকায় আনতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর দিকে বেশি নজর দলটির।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পার্টি অফিসের (নয়াপল্টনে) সামনেই মহাসমাবেশ করতে চেয়েছি। নিয়মের মধ্যে থেকে আইনসংগতভাবে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপায়ে চিঠি দিয়ে বিষয়টি ডিএমপিকে অবগত করেছি। এখন সরকারের, ডিএমপির দায়িত্ব সমাবেশের নিরাপত্তাসহ যা কিছু করার।’ তিনি বলেন, ‘আজকে (রবিবার) পার্লামেন্টের সেশন শুরু হচ্ছে। আসলে শেষ কি না, বলা মুশকিল। কারণ বর্তমানে সংবিধানকে কেটে-কুটে তারা যে অবস্থায় নিয়ে গেছে? তারপরও আহ্বান করছি, এই পার্লামেন্টকে ব্যবহার করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের বিধান নিয়ে আসতে পারেন তারা। এটাকে (নির্দলীয় সরকার) পাস করে ওই সংবিধানের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। দেশপ্রেম থাকলে, মানুষকে ভালোবাসলে, গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থা (নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার) সংবিধানে সন্নিবেশিত করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় দেশে যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ইতিমধ্যে করেছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা চায় না বিরোধী দল নির্বাচনে আসুক, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কারণ তারা জানে, জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে তাদের চলে যেতে হবে। তাদের মূল লক্ষ্য একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আগে সরাসরি করেছিল, এখন গণতন্ত্রের লেবাস পরিয়ে একটু ঘুরিয়ে করে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাধা হচ্ছে বিরোধী দল বিএনপি। সে জন্য সাজা দিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চায়।

১৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৪৭টি মিথ্যা মামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৪৭ মামলায় আসামি করেছে ১২ হাজার ৭৩০ জন। চিন্তা করেন কোন রাজ্যে, দেশে, সমাজে বাস করছি আমরা। ওই সব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ৫৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শনিবার বার কাউন্সিল ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে যা বলেছেন, এটা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক সমাজের প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রশাসনের প্রধান বলতে পারেন না। তিনি মামলা-মোকাদ্দমার ব্যাপারে, আদালতের ব্যাপারে, বিচারাধীন মামলার ব্যাপারে এ ধরনের বক্তব্য রাখতে পারেন? তার (প্রধানমন্ত্রীর) বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার ফরমায়েশি আদেশ দিয়ে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করছে। বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সারা দেশে নেতাদের ‘ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা’ প্রদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এটা (ঢাকায় নেতাকর্মীরা বসে পড়বে বলে তাদের ঢাকায় প্রস্তুতি নিয়ে আনা হচ্ছে) সম্পূর্ণ ভুল কথা। নো নো। এটা একেবারেই অপপ্রচার। নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে বসে পড়তে আমরা তো বলিইনি। আমরা বলেছি, ২৮ তারিখের কর্মসূচির পরে যে যার জায়গায় চলে যাবে এবং পরবর্তি কর্মসূচির জন্য তারা অপেক্ষা করবে। এটা পরিষ্কার? ২৮ তারিখে ঢাকায় বসে থাকার মতো কর্মসূচি আমরা দেব না।’

‘বসে পড়ার জন্য সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা হচ্ছে’- ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এ রকম বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের কথায় কান দিয়েন না। কথা হচ্ছে, তাদের আসলে কোনো উপায় নেই। তাই চিৎকার, চেঁচামেচি করে, ভয়টয় দেখিয়ে যেকোনো উপায়ে ঠেকানোর চেষ্টা করছে। কোনো রাস্তা তো নাই। সময় শেষ। আমরা নিশ্চয়তা দিতে চাই, ২৮ অক্টোবরে আমাদের সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হবে। এর নিরাপত্তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে নিজস্ব সিকিউরিটি ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

‘২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পরিণতি ১০ ডিসেম্বরের মতো হবে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘নিশ্চয় মনে আছে, ১০ ডিসেম্বর (২০২২ সাল) আগে ৭ ডিসেম্বরে বিনা প্ররোচনায়, উসকানিতে আমাদের অফিসে আক্রমণ করেছে, হামলা চালিয়ে ৪৫০-৫০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। সমাবেশকে প- করে দেওয়ার জন্য তারা এসব করেছিল। কিন্তু ১০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছি। ২৮ তারিখের সমাবেশ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আমাদের দ্বারা এখন পর্যন্ত কোথাও অশান্তির সৃষ্টি হয়নি; যা কিছু করছে এই সরকার, তার পেটুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশাসন, বিশেষ করে পুলিশকে বলতে চাই, কোথাও অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এতে বাধার সৃষ্টি করলে তা সম্পূর্ণভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বরকতউল্লা বুলু, আবদুস সালাম, লিটন মাহমুদ, ইউনুস মৃধা, আবদুল হালিম ডোনার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রীতা, নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন, মুন্সীগঞ্জের কামরুজ্জামান রতন, ঢাকার আবু আশফাক খন্দকার, গাজীপুরের ফজলুল হক মিলন, শাহ রিয়াজুল হান্নান, নারায়ণগঞ্জের গিয়াস উদ্দিন, শাখাওয়াত হোসেন খানসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত