বরগুনার পাথরঘাটায় অপহরণের একদিন পর মাদ্রাসাছাত্র হাসিবুল ইসলামের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কাকচিড়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া এলাকার বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে অপহরণ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী।
নিহত শিশু হাসিবুল পাথরঘাটার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরঘাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং পাথরঘাটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ আল নোমানকে (১৯) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ছাড়া আরও ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পাথরঘাটা থানা পুলিশ। ঘাতক আবদুল্লাহ আল নোমান পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের মহিউদ্দিন ফরাজীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসিবুলকে অপহরণ করে হত্যা করার পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন ঘাতক নোমান। খুন করার আগে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসিবুলের ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে শনিবার বিকেলে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন নোমান।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় হাসিবুলের বাবার মুঠোফোনে হাসিবুলের ফোন থেকে কল দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং হুমকি দেন। টাকা না পেয়ে পরবর্তীতে হাসিবুলের মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে চিকিৎসার জন্য আরো চার হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর কথা বলেন। তখন হাসিবুলের পরিবার বিকাশে চার হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সে টাকা উত্তোলন করতে পারেনি নোমান।
রবিবার সকালে পৌর এলাকার সেই বাসার গিয়ে ড্রামের ভেতর মরদেহ ঢুকিয়ে কাঁথা পেঁচিয়ে শ্বশুর বাড়ি হোগলাপাশা এলাকায় নিয়ে একটি খড়ের গাঁদার পাশে রাখে। এরপর রবিবার বিকেলে একটি অটোরিকশায় করে কাটাখালী এলাকায় সন্ধ্যায় ফেলে আসে।
বরগুনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় হাসিবুল ইসলামের বাবা তার ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট অনুসন্ধানে নামে। তবে অপহরণকারী বারবার স্থান ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করায় ঘাতক নোমানকে আটক করতে বেগ পেতে হয়। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নোমানকে আটক করা হয়। নোমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাসিবুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঘাতক নোমান সহ তার বাবা মহিউদ্দিন, শশুর ইউনুস, স্ত্রী তাহিরা, শাশুড়ি রাহিমা, স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুর রহমান, অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান, স্থানীয় জসিমসহ নয় জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নোমানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
