সাদিরার ছুটে চলা নাকি ব্রুকের জ্বলে ওঠা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ১২:২৩ এএম

তার অভিষেকটা মোটেও মনে রাখার মতো নয়। শ্রীলঙ্কার জার্সিতে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। শারজায় সেই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুটোতেই জোড়া ‘শূন্য’ করে আউট হয়েছিলেন। সেটা ২০১৭ সালের অক্টোবরের কথা। সেই অভিষেকের পরে কেউ তার ভবিষ্যৎ এত রঙিন ভাবেননি। ২০১৯ সালের পর আর তাকে জাতীয় দলের ধারেকাছেও দেখা যায়নি। তিনিও দমে যাননি, ফেরার জন্য লড়াই করেছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ৬ বছর পর আরও একটা অক্টোবর যখন চলছে, তখন তিনি শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসার নাম।

সাদিরা সামারাবিক্রমা। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে করাচিতে শেষ বার ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন। মাত্র ৬ রান করে আউট হয়ে যান। তারপর থেকেই তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে। ঐ সময়টা নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। সেই সংগ্রাম শেষ হয়েছে গত জুনে। আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই দেন আস্থার প্রতিদান। খুলে যায় এশিয়া কাপের দরজা। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন ৯৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস।

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস দিয়ে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে খেলার টিকিট পেয়ে যান। সেখানেও হেসে চলেছে তার ব্যাট। হায়দ্রাবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেয়ে যান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। কিন্তু সেই ইনিংস দলকে জেতাতে পারেনি। তবে নিজের কাজটা তিনি ঠিকই করে যাচ্ছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলেছেন ৯১ রানের ম্যাচ জেতানো রানের ইনিংস।

তাই পুরো লঙ্কাবাসী আজ তার দিকে তাকিয়ে থাকবে। কারণ প্রতিপক্ষ ইংলিশদের সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে না। একটিমাত্র ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে। হেরেছে আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে। শ্রীলঙ্কারও শুরুটা ভালো হয়নি। টানা তিন ম্যাচে হার দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা, যে হারের রথ থামে ডাচদের বিপক্ষে জয় দিয়ে। তবু সবশেষ ম্যাচ জেতায় লঙ্কানরা মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। সে কারণেই জয়ের প্রত্যাশা আছে তাদের। যেখানে এক্স ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন সাদিরা।

চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে একটি ফিফটি। তাতে করেছেন ২৩০ রান। শেষ ম্যাচটিতে খেলেছেন অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস। তাতে তার গড়টাও ৭৬.৬৬। সুতরাং আজ বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তার ব্যাট আবারও জ্বলে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে তার সতীর্থ আর সমর্থকদের।

সাদিরাকে ঘিরে লঙ্কানদের যেমন প্রত্যাশা, তেমনি ইংলিশ ক্রিকেটের সমর্থকদেরও প্রত্যাশা থাকবে একজনকে ঘিরে। তিনি হ্যারি ব্রুক। তার নাম শুনে অনেকে হয়তো চমকে উঠতে পারেন। কারণ বিশ্বকাপের ভাবনাতেই যে তিনি ছিলেন না। প্রথমে দলেই রাখা হয়নি তাকে। কিন্তু জেসন রয় ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় কপাল খুলে তার। জায়গা হয় বিশ্বকাপ দলে। টুর্নামেন্টের চলমান আসরে এখন পর্যন্ত সব ম্যাচেই খেলেছেন। বলার মতো সংগ্রহ পেয়েছেন শুধুই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। সেদিন ৬৬ রানের একটি ইনিংস খেললেও দলকে জেতাতে পারেননি।

হ্যারি ব্রুকের ক্যারিয়ারটা এত দীর্ঘ নয়। ওয়ানডেতে তার অভিষেকই হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ২৭ জানুয়ারি অভিষেক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হয় তার অভিষেক। তার শুরুটাও সাদিরার মতোই ভুলে যাওয়া একটা দিন। তিনিও নিজের প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। তবে পরের ম্যাচেই খেলেন ৮০ রানের একটা ইনিংস। তাতেই নজর কাড়েন সবার।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো নয়। তবে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে নজর কেড়েছিলেন বলেই তিনি আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে ১৩ কোটি ২৫ লাখ রুপির ক্রিকেটার হতে পেরেছিলেন। শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তানের পিএসএলেও আছে তার কদর। খেলেন লাহোর কালান্দার্সে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে আছে তার তিনটি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটি। লিস্ট-এ’তেও খুব একটা আহামরি কিছু করতে পারেননি তিনি। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ২৫ ম্যাচের ২২ ইনিংসে ব্যাট করে করেছেন মাত্র ৫৯৪ রান। আছে তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি।

তবুও তার ওপর আস্থা রেখেছেন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকরা। তাদের আস্থার প্রতিদান সেভাবে এখনো দিতে পারেননি ব্রুক। কিন্তু নিজের দিনে জ্বলে উঠলে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠতে যে তিনি সময় নেবেন না সেটা জানে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই তো এখনো তার প্রতি বিশ্বাস রাখছেন তারা। টেস্ট ক্রিকেটে আলো ছড়ানো এই ক্রিকেটারকে ওয়ানডে দলে নেওয়া হয়েছিল বেন স্টোকস অবসর নেওয়ার পর। ইংলিশ ক্রিকেটের ৫০ ওভারের দলের দরজা খুলে যাওয়ার পর তার স্বপ্নে ভাসতে থাকে বিশ্বকাপ। কিন্তু তার স্বপ্নের সলিল সমাধি হতে চলেছিল, স্টোকস অবসর ভেঙে ফিরে আসাতে। তবে ভাগ্যের লিখন তো আর খ-ন হয় না, তেমনি তার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত