বাংলাদেশের দিকেই জয়ের পাল্লাটা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৫৫ এএম

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চেয়েও আলোচিত বিষয় সাকিব আল হাসানের দেশে ফিরে আসা। এটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্যও আছে। কিন্তু অধিনায়কের হুট করে দেশে ফেরার একটা ইতিবাচক দিকও আছে। এটা ঠিক বিশ্বকাপের চার ম্যাচে ৫৬ রান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নামের সঙ্গে মানায় না। এমন অবস্থা দেখে টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে তার এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তাকে ভালোভাবে চেনেন এমন কারও শরণাপন্ন হওয়া উচিত, সেটা করতেই পারে।

বিশ্বকাপের সময় কোনো ক্রিকেটার পারিবারিক প্রয়োজন ছাড়া ছুটি পায় না। তাই সমালোচনাটা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা অন্যভাবেও করা যেত। দল কলকাতায় আসার আগে নাজমুল আবেদীন ফাহিম ভাইকে সেখানে নিয়ে যাওয়া যেত। তাহলে বিষয়টা আরও প্রফেশনাল হতো। তবে আমি আশা করি নিজের ভুলগুলো শুধরে পরের ম্যাচে সাকিব ঘুরে দাঁড়াবে।

পরের ম্যাচটা যে আজই। কলকাতায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। তারা পরিসংখ্যানে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। ৪০০ রান করার মতো উইকেট। তবে এত রান করার মতো দুই দলের কারোরই নেই। তবে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করলে ৩৩০ হতে পারে। কাগজে-কলমে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকাটা স্বাভাবিক সাকিবের মতো ক্রিকেটারদের। বাজে ফর্মের কারণে মানসিক যে ধকল আছে সেটা কাটিয়ে ওঠার মোক্ষম সুযোগ এটাই।

তবে ডাচদের ছোট করে দেখার নেই। তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের হালকাভাবে নেবে না। আজ সব ভক্তদের আশা ডাচদের হারাবেন লিটন দাসরা। কিন্তু আমি মাঝেমাঝে অবাক হই, ২৭ বছর আগে যখন আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ এসব দলকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে যেত। এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরও একই লক্ষ্য হতাশাজনক। এজন্য অবশ্য আমি ক্রিকেটারদের দোষ দিই না। আমরা ‘লোক দেখানো পারফরম্যান্স’ নিয়েই খুশি। বাংলাদেশের দর্শকরা নাটকটা দেখতে পান শুধু। কিন্তু পেছনের কারিগর যারা, তাদের ত্রুটি অনেক। সেটা সাড়ানো হয় না। ক্রিকেটের বাজার আছে, জনপ্রিয়তাও লোকের কাছে তুঙ্গে। অনেক টুর্নামেন্টও হয়। কিন্তু ঘোড়া থাকলেও রেসিংয়ে পাঠানো হয় না। দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির উন্নতি আসলে এজন্যই হয়নি।

১৯৯৭ ঢাকার লিগে পয়েন্ট তালিকার তলানির দলটাও এক কোটি টাকা খরচ করত। মাঠের ক্রিকেটে কেউ কাউকে ছাড় দিত না। কিন্তু একালে বেশিরভাগ দলই একে অন্যের ভাই। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন হয়নি সঠিক মানুষ ও ভালো পরিকল্পনার অভাবে।

টুর্নামেন্টে মাহমুদউল্লাহ তরুণরা ভালো খেলতে পারেনি বলে সুযোগ পেয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে অভিজ্ঞতার একটা দাম আছে। সেঞ্চুরি করে জবাবটা দিতে পেরেছে। তার ব্যাটই যেন কথা বলেছে দেশের অগণিত সমর্থকের কণ্ঠ হয়ে।

ম্যাচের কথায় ফিরে আসি। আজ বাঙালি অধ্যুষিত একটি মাঠে খেলা। সেখানকার যারা আজ মাঠে যাবে, তাদের ৯০ শতাংশ লোকেরাই বাংলাদেশকে সমর্থন করবে। জয়ের পাল্লাটাও যে বাংলাদেশের দিকেই ঝুলে থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত