'ফ্লাইং ডাচম্যানরা' এখনই টেস্ট খেলতে চায় না

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলো বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিতই লড়াই গড়ে তুলছে। নেদারল্যান্ডসও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। তবে দেশটির ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তব অবস্থানই স্পষ্ট করে দিলেন ডাচ অলরাউন্ডার লোগান ফন বিইক।এই মুহূর্তে নেদারল্যান্ডসের জন্য টেস্ট ক্রিকেট কোনো অগ্রাধিকার নয়।

'এই পর্যায়ে টেস্ট ক্রিকেট আমাদের ফোকাস নয়। এমনও হতে পারে, আমরা ভালো খেলব, যোগ্যতা অর্জন করব, কিন্তু দুই বছরে গিয়ে হয়তো মাত্র একটি টেস্ট খেলব। বাস্তবে এতে খুব একটা লাভ হয় না', যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলছিলন ফন বিইক। 
কারণটাও তিনি জানান, নেদারল্যান্ডসে লাল বলের কাঠামোই নেই বললেই চলে।

‘এ মুহূর্তে আমাদের ক্লাব কাঠামোয় শুধু টি–টোয়েন্টি আর এক দিনের ক্রিকেট খেলা হয়। নেদারল্যান্ডসে কেউই নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে না। এখানে কোনো লাল বলের টুর্নামেন্টই নেই। আমাদের দলে মাত্র কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা বিদেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে থাকে।’
ফন বিইক মনে করেন, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো দিন যেকোনো দল অন্য দলকে হারাতে পারে। এক দিনের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা দীর্ঘ হয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে গেলে সাধারণত শক্তিশালী দলই বেশি সময় ধরে আধিপত্য দেখায়।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে খেলোয়াড়দের ভাণ্ডার বড় হতে হবে এবং শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম শ্রেণির কাঠামো দরকার। না হলে টেস্ট খেলতে গিয়ে আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই কঠিন হয়ে যায়।’

নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট উন্নয়নের আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন ফন বিইক।  তার মতে, এখন নেদারল্যান্ডসের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত টি–টোয়েন্টি ও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো করা এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো।

‘আমরা যদি এই দুই সংস্করণে ভালো করতে পারি, তাহলে র‍্যাঙ্কিং বাড়বে, স্পনসর ও অর্থায়ন বাড়বে। সেখান থেকেই আমাদের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।

বর্তমান নেদারল্যান্ডস দলে বিদেশে বেড়ে ওঠা বা প্রবাসী পেশাদার খেলোয়াড়দের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রুলফ ফন ডার মারউই ও লোগান ফন বিইক নিজেই তার উদাহরণ। ফন বিইক বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রেই ধরুন, আমি নিউজিল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলি। নেদারল্যান্ডস যদি পূর্ণ সদস্য মর্যাদা পায়, তাহলে আমি সেখানে বিদেশি খেলোয়াড় হয়ে যাব। সেক্ষেত্রে আর নিউজিল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ থাকবে না। তখন আমাকে শুধু নেদারল্যান্ডসের হয়ে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি খেলেই থাকতে হবে।

তার মতে, বর্তমান কাঠামোতেই নেদারল্যান্ডসের জন্য বিষয়টি সবচেয়ে কার্যকর। খেলোয়াড়রা দেশে খেলতে পারেন, আবার বিদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারেন। ‘ভবিষ্যতে হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের দিকেও আমরা এগোতে পারব। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের জন্য টি–টোয়েন্টি ও এক দিনের ক্রিকেটেই মনোযোগ দেওয়া সবচেয়ে যুক্তিসংগত,’ বলেন ফন বিইক।

পরিসংখ্যানও নেদারল্যান্ডসের এই বাস্তব অবস্থানকে সমর্থন করে। সাদা বলের দুই সংস্করণ মিলিয়ে এটি তাদের ১১তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। ১৯৯৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলার পর থেকে বড় মঞ্চে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় জয় পেয়েছে ডাচরা—২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত