রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শহরের গালাপট্টি মোড় ও শহর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও সদরের গোকুলে এঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিশু, সাংবাদিক, পুলিশ ও নেতাকর্মীসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন শিশু, দুই সাংবাদিক, আওয়ামী লীগের ১৫ জন, বিএনপির ২৫/৩০ জন ও একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা শহরের গালাপট্টি এলাকায় বেলা ৩টা পর্যন্ত পুলিশ, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবলীগ, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক উদয় কুমার বর্মণ, ছাত্রলীগ নেতা নাইম ইসলামসহ ১৫ জন আহত হয়ে বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসময় বিএনপির ২৫ থেকে ৩০ আহত হয়েছেন বলে মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে ও একাধিক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদরের গোকুল খোলার ঘর এলাকায় হরতালের সমর্থনে যানবাহন থামিয়ে পিকেটিং করার সময় গোয়েন্দা পুলিশ পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মাহি নামে এক শিশু আহত হয়। এঘটনায় স্থানীয় মসজিদে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে জানানো হয়। এরপর শতশত নারী-পুরুষ মহাসড়কে এসে গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আবারও কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এসময় উত্তেজিত জনতার আক্রমণে দৈনিক করতোয়ার অনলাইন রিপোর্টার রাহাত রূপান্তর ও জয় যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্টার শাকিল আহত হয়েছেন। এসময় ওই এলাকার আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, বর্তমানে শহর ও আশপাশের এলাকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের একাধিক সদস্যও আহত হয়ে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গালাপট্টি এলাকায় শহর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েলসহ যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগদের ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, রবিবারের হরতালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। শহরে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে সরকারি দলের গুণ্ডারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাতবোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। হরতালের আগে কারণ ছাড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গোকুলে সকাল থেকে গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহাসড়কে পিকেটিং করছিলেন। পুলিশ বিনা উসকানিতে গ্রামবাসীদের ওপর দফায় দফায় গুলিবর্ষণ করেছে বলে দাবি তার।
