আবারও বাড়ল পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ০২:০৮ এএম

দেশে পেঁয়াজের প্রধান সরবরাহকারী দেশ ভারত। দেশটির বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যটির দ্বিগুণ মূল্য নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। এতে দেশের বাজারে  দুদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আগে থেকেই বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। নতুন করে ভারত পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাজারে তার প্রভাব দ্রুতই পড়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ভারত সরকার পেঁয়াজ আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সে সময় দেশের বাজারে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এবারও ভারত সরকারের পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। গত দুদিনে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। ২০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা দুদিন আগে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানিকৃত ও দেশি পেঁয়াজ কেজিতে গড়ে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, যা দুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মোকাম থেকে প্রতি পাল্লা পেঁয়াজ কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়। ফলে খুচরায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেশীয় পেঁয়াজের তুলনায় অনেক দ্রুত দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ রুপি। এ দামে আমদানি করে আনতে সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ে ১১০ টাকার কাছাকাছি। শুনেছি দেশটির সরকার পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শ্যামবাজারের আমদানিকারক হাজী আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লে দেশের বাজারে তার একটা প্রভাব সবসময় পড়ে। বর্তমানে দেশের আড়ত ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ নেই। তাছাড়া ভারতের বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও এ পণ্যটির দাম বেড়েছে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম ঠিক রাখতে রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে; যা আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় শনিবার জানিয়েছে, চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৮০০ ডলার হলে কেজিপ্রতি এর রপ্তানি মূল্য পড়বে ৬৭ রুপি। ফলে দেশের ভেতরে কোনো কোনো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮০ রুপি পর্যন্ত উঠে গেছে। এ অবস্থায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে গেলে বাড়তি দামে কিনতে হবে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর খবরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়ে গেছে। এদিন বন্দর দিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভারত থেকে আগের টেন্ডারকৃত ও শুল্ক পরিশোধ করা ১৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তবে বন্দরে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে যে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু সেই ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ গতকাল ১০০ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে, যদিও দাম নির্ধারণ করা হয় সন্ধ্যার পর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত