আব্বাস আলালের সঙ্গে সারওয়ার্দীও গ্রেপ্তার

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০৭ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পর বিএনপির আরও দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মো. হারুন অর রশীদ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও আলাল ছাড়াও হাসান সারওয়ার্দীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ (মঙ্গলবার) রাত সোয়া ৮টার দিকে মির্জা আব্বাসকে শাহজাহানপুর ও আলালকে কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর মঞ্জুরুল ইমামের আদালত তার জামিন বাতিল করে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এদিন এ মামলার সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি মির্জা আব্বাস ও সাফাই সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে মির্জা আব্বাসের জামিন বাতিল করে। একই সঙ্গে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিবিহীন ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. শফিউল আলম রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ২২ লাখ টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপনের প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৬ জুন আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। আদালত ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে।

গত শনিবার বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক সহিংসতা হয়। পুলিশের একজন সদস্যসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন রবিবার পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা হয়েছে। সেদিন মির্জা আব্বাস, আলালসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। ওইদিন সকালে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার অভিযোগে রমনা থানায় করা মামলায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কথিত উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়া মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফীর সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগে গতকাল বিকেলে সাভার থেকে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

গতকাল গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হাসান সারওয়ার্দী বিষয়ে জানতে চান এক সাংবাদিক। তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসান সারওয়ার্দীকে ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হবে। জিজ্ঞেস করা হবে তিনি কেন এরকম প্রতারণা করলেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরপরই হাসান সারওয়ার্দীকে গ্রেপ্তারের খবর জানা যায়।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে মিয়া আরেফী বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার পাশে হাসান সারওয়ার্দী বসে আছেন। মিয়া আরেফী র‌্যাবের ওপর স্যাংশনে সহায়তার কথা বলেছেন। এমনকি তিনি পুলিশ, আনসার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর নামেও স্যাংশন দেওয়াবেন।’

ডিবিপ্রধান বলেন, মিয়া আরেফী এ বক্তব্য দেওয়ার ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হন এবং পরে রাতে বাসে আগুন লাগিয়ে দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রদ্রোহীর কাজ করেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে আরেফীকে গত শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান সারওয়ার্দী। আরেফীর বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

বিএনপি কার্যালয়ে কথা বলার সময় আরেফীর সঙ্গে হাসান সারওয়ার্দী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে রবিবার ঢাকা ছাড়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরেফীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অন্যের রূপ ধরে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছে। হাসান সারওয়ার্দী ওই মামলার আসামি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত