হাসপাতালে মাকে অজ্ঞান করে শিশুকে নিয়ে সটকে পড়েন নারী

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫৪ পিএম

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপহৃত এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকারী ও ক্রয়ের জন্য অপেক্ষমান বেদে নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহৃত ওই শিশুর নাম লাবিব। তার বয়স এক বছর। সে গাজীপুর হানগরীর সদর থানাধীন মাঝিরখোলা এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সদর মেট্রো থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যেরাতে মহানগরীর পুবাইল থানা এলাকায় ও সদর থানাধীন ভোড়া (চৌকিদার বাড়ী) এলাকার অভিযান পরিচালনা করে শিশু লাবিবকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার বাউশী দশাদার গ্রামের সুলতান মিয়ার স্ত্রী মোসা. সুলতানা খাতুন (২৬) ও ভোলা জেলা মনপুরা থানা হাজীরহাট গ্রামের আনসার মীরের মেয়ে মোসা. ফারজানা আক্তার (১৯)।

অপহৃত শিশু মা হামিদা আক্তার জানান, আমার বড় ছেলে হাবিব (৭) এবং ছোট ছেলে লাবিব (১) কে নিয়ে সদর থানাধীন হাড়িনাল মাঝিরখোলা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকি। এরই মাঝে গত দেড় মাস আগে তার বড় ছেলের হাটুতে ব্যাথা পাওয়ায় ছেলেকে নিয়ে সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ভর্তি থাকার একপর্যায়ে গত ১ নভেম্বর বিকালে বড় ছেলেকে দেখাশুনা করাকালে বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতনামা ওই মহিলা কৌশলে তার সাথে মিশে। একপর্যায়ে সে তাকে অজ্ঞান করে ছোট ছেলে লাবিবকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকক্ষণ অচেতন হয়ে পড়ে থাকলে পার্শ্ববর্তী লোকজনের সন্দেহ হলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। পরে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর ছোট ছেলেকে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে আমরা থানায় অভিযোগ করা হয়।

সদর থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম জানান, শিশু অপহরণের ঘটনাটি জানার পর থেকে সদর থানা পুলিশের কয়েকটি টিম বিভিন্নভাবে শিশুটিকে উদ্ধারে কার্যক্রম করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা একটি ছায়া অভিযান পরিচালনা করি এবং শিশুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি। এ বিষয়ে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতরদের গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত