আজ রবিবার থেকে দেশব্যাপী দুদিনের সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এর আগে বিএনপির ডাকে গত ২৯ অক্টোবর রবিবার হরতাল ও ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অবরোধ চলে। হরতাল-অবরোধের কারণে দুর্দশার মুখে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা যাদের প্রতিদিনের রোজগার না হলে সংসার চলে না। তারা বলছেন, এই অবরোধ তাদের কথা ভেবে ডাকা হয়নি, বড় দুই দলের ক্ষমতার লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ফেনীর মহিপাল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে শ’তিনেক বাস দাঁড়িয়ে আছে। আবার দুদিনের অবরোধকে সামনে রেখে এই অবসরে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের গাড়ি ধোয়ামোছা, চাকা বদলানোসহ মেরামতকাজ সেরে নিতে ব্যস্ত।
জানা গেছে, প্রতিদিন ফেনীর মহিপাল বাসটার্মিনাল দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩০০ বাস চলাচল করে।
প্রায় দুই বছর ধরে ‘স্টারলাইন পরিবহন’ বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছেন লক্ষ্মীপুরের লোকমান শেখ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাত্রীর অভাব ও পিকেটারদের ভয়ে মালিকরা গাড়ি ছাড়তে চাচ্ছেন না। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মাসে কয়েকদিন গাড়ি চলবে, এতে যে আয় হবে তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া আর বৌ-বাচ্চা নিয়ে কীভাবে চলব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। পরিবহন খাতের বেশিরভাগ শ্রমিকেরই এমন অবস্থা বলে জানান তিনি।
শ্রমিক আবদুর রহিম বলেন, আমরাও তো জনগণের সেবা দিই। পরিবহন সেবা মানুষের জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু এই অবরোধে আমরা কী পেলাম। আমাদের খবর কেউ রাখে না।
ফেনী থেকে সোনাপুরগামী বাসের কর্মচারী রুবেল মিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে বাজার নিয়া যাইতে পারুম না। গাড়ি না ছাড়ার কারণে কাজও হয় নাই। পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য প্রত্যেকটা ২৫০ গ্রাম কইরা কিনলেও ৪০০-৫০০ টাকা লাইগা যায়। ৫০০-১০০০ টাকা যা-ই আয় হইত সেইটাও বন্ধ হইয়া গেছে। বাসার মানুষগুলার মুখে কী দিমু তাই নিয়া চিন্তিত। আমরা তো কোনো পক্ষের না, আমরা চাই সবকিছু স্বাভাবিক চলুক, পেটে ভাত জুটুক।’ পাশে বসে থাকা আরেক বাসশ্রমিক বলে ওঠেন, ‘অবরোধে তাগো কিছু মিলব কি না জানি না, আমাগো পেটে লাথি।’
আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও স্টারলাইন পরিবহনের পরিচালক জাফর উদ্দিন বলেন, স্টারলাইন পরিবহনে প্রায় এক হাজার দুইশ শ্রমিক কাজ করে। এছাড়াও ফেনীতে প্রায় ১৫ হাজার বাসশ্রমিক রয়েছে। হরতাল-অবরোধে কাজ করতে না পারায় তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
ফেনী জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন পরিবহন শ্রমিকরা। তিনি হরতাল-অবরোধ থেকে পরিবহন খাতকে দূরে রাখার আহ্বান জানান।’
