তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা আগুনসন্ত্রাস চালাচ্ছে, পুলিশ হত্যা করেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অনুকরণে হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, আমাদের মা-বোনদের কাপড় ধরে টানাটানি করেছে, আগুনসন্ত্রাস চালিয়ে এখন যারা গর্তে ঢুকেছে, তাদের গর্ত থেকে বের করে এনে শায়েস্তা করা হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম
নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সাবেক সদস্য প্রয়াত আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রয়াত আক্তারুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি বলেছিল ২৮ তারিখ ফাইনাল খেলা হবে, কিন্তু তারা খেলার আগেই মাঠ ছেড়ে চলে গেছে। পুলিশ একটা গুলিও ছোড়েনি, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজেই মির্জা ফখরুল সাহেবসহ সবাই মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন, আর নেতাকর্মীরাও পেছনে পেছনে চলে গেলেন।’
বিএনপি-জামায়াত জোট নেতারা এখন জনশত্রুতে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা গাড়িতে আগুন দেয়, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে। ডাকাত ডাকাতি করে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে না। চোর চুরি করে, সে মানুষের বাড়িতে আগুন দেয় না। এরা মানুষের সহায়-সম্পত্তিতে আগুন দিচ্ছে। এরা জঘন্য ডাকাত এবং জঘন্য সন্ত্রাসীর চেয়েও বেশি জঘন্য। এরা জনগণের শত্রু। গাড়িচালক ভাইদের অনুরোধ জানাব, গাড়িতে আত্মরক্ষার্থে প্রয়োজনে লাঠি ও লোহার রড রাখবেন। কোনো দুষ্কৃতকারী আক্রমণ করলে সেই দুষ্কৃতকারীকে শায়েস্তা করবেন। আক্রান্ত হলে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে আইনেও বাধা নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ভেবেছিল কেউ কোলে করে শিশুদের মতো ফিডার খাওয়াতে খাওয়াতে ক্ষমতার দোলনায় বসিয়ে দেবে। সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজে যারা পালিয়ে যায় তাদের সঙ্গে কেউ থাকে না। সুতরাং তারা কাউকে পাবে না।’
আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। সেজন্য জনগণের পাশে থাকতে হবে। পাড়া-মহল্লায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাসে আগুন দিতে যদি কেউ উদ্যত হয়, তাদের ধরে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।’
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু কখনো ক্ষমতার সঙ্গে আপস করেননি উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তার জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। রাজনীতি হচ্ছে একটি ব্রত, রাজনীতি ক্ষমতায় যাওয়া, বিত্তবৈভব ও খ্যাতি অর্জনের সোপান হওয়া উচিত নয়। যে আদর্শ বিশ্বাস করে সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতিবিদকে সাহসী হতে হয়। যে রাজনীতিবিদ সাহসী নয়, সে আপস করে। যেই রাজনীতিবিদ আপস করে হয়তো অনেক পদবি পায়, কিন্তু পরে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যায় এবং আপসকামী হিসেবে সে চিহ্নিত হয়ে থাকে।’
