কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করায় সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এতে সাধারণ নেতাকর্মীরা পড়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। কোন গ্রুপে গেলে কে বাদ পড়ে যায় মূল কমিটি থেকে বা মানানসই হয়, দলীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় এ রকম দ্বিধা চলছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
নেতাকর্মীরা জানান, ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ ও ২ নভেম্বরের কমিটি এবং তাদের গঠিত ইউনিয়ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে গতকাল সোমবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু ইউছুফের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে ‘শান্তি মিছিল’ করা হয়। মিছিলটি নাঙ্গলকোট তরকারি বাজার আওয়ামী লীগ অফিস থেকে শুরু হয়ে পৌর বাজারের বিভিন্ন সড়ক পদিক্ষণ শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে (লোটাস কামাল) হুঁশিয়ারি দিয়ে আবু ইউছুফ বলেন, ‘মন্ত্রী যদি আর একবার ভুল করেন, বাংলার কোনো লোক এদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমাদের ভুল পথে নিয়ে, বিভিন্ন হয়রানি ও কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তি করলে আপনাকে ছাড় দেওয়া হবে না। যদি এ নিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা হয়। তাহলে এই নাঙ্গলকোট অচল হয়ে যাবে। আসুন, একসঙ্গে কাজ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করি।’
অপরদিকে, একই দিন নতুন কমিটির উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু চত্বরের পাশে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির অবরোধ, আগুনসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল হয়। এ সময় অধ্যক্ষ ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘নাঙ্গলকোট আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং নেই।’
এ বিষয়ে কথা বলতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
তবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রেলমন্ত্রী মজিবুল হক এমপি বলেন, ‘এই কমিটি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
