ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের বিপরীতে লিংকডইন একটি পেশাদার প্ল্যাটফরম। যেখানে একই সঙ্গে ব্র্যান্ডিং ও ভোক্তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা যায়। পাশাপাশি পণ্যের আকর্ষণীয় পোস্ট করে সম্ভাব্য গ্রাহকের কাছে বাজারজাত, ব্যবসায়ের মালিকদের নেটওয়ার্কিং ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধি করা যায়। ডিজিটাল বিপণন কৌশলের জন্য লিংকডইন একটি সেরা সহায়ক মাধ্যম। প্ল্যাটফরমটি গ্রাহক, কর্মচারী, অংশীদারসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী খুঁজে পেতেও সহায়ক। ২০০টিরও বেশি দেশে ৯৫০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী লিংকডইনকে বিশ^স্ত পেশাদার ও ব্যবসায়িক প্ল্যাটফরম হিসেবে ব্যবহারে আগ্রহী। লিংকডইন ব্লগ থেকে জানা যায়, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিনজন পেশাদার হিসেবে লিংকডইনে যুক্ত হতে সাইন আপ করেন।
লক্ষ্য শনাক্ত করা
যে কোনো বিপণন উদ্যোগের মতো লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিংকডইন সাধারণত বিটুবি বিপণন লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যেমন ব্র্যান্ড প্রোফাইল তৈরি ও বৃদ্ধিকরণ, পোস্ট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ, পণ্যের প্রাসঙ্গিক বা সম্ভাব্য ট্র্যাফিক খুঁজে বের করা, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি প্রচার করা। মনে রাখবেন, একবার আপনার লক্ষ্যগুলো জানতে পারলে, একটি পরিপাটি ও কার্যকরী বিপণন পরিকল্পনা সহজেই তৈরি করা সম্ভব।
স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রোফাইল সেটআপ
অনলাইন জগতে কোম্পানির প্রোফাইল হলো ব্র্যান্ডের হৃদয়। এটিকে আত্মা ধরে নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারলে সহজেই ব্যবসা বৃদ্ধি করা যায়। গ্রাহকরা অনলাইনে আপনার ব্যবসা, পণ্য কিংবা পরিষেবাগুলো সম্পর্কে অনেক জানতে চায়। কোম্পানির প্রোফাইলে বিস্তারিত বর্ণনা থাকা অপরিহার্য। গ্রাহককে ধরে রাখতে কেবল একটি যদি সুযোগ পান, সেটিকে প্রোফাইল হিসেবে ধরে নিন। প্রোফাইলে কোম্পানির বিস্তারিত, কী পণ্য নিয়ে বা কী কী পরিষেবা দিচ্ছেন সেসব, আপনার লক্ষ্যও সাজিয়ে রাখতে পারেন, এতে আপনার সম্পর্কে গ্রাহকের দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন থাকবে না। কোম্পানির চমৎকার প্রোফাইল পূরণে যা করতে পারেন : টাইপিং মিসটেক ও ব্যাকরণগত কোনো ভুল নয়, প্রতিযোগীদের প্রোফাইল থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো ও তাদের পাশে ব্যবসাকে দাঁড় করাতে আপনার করণীয় নির্ধারণ, যে কোনো স্বীকৃতি বা পুরস্কারের তালিকা, সুপরিচিত ক্লায়েন্টদের প্রোফাইলে উল্লেখ করা (যদি অনুমতি দেয়), কোম্পানির ওয়েবসাইট-স্যোশাল মিডিয়া লিঙ্ক যুক্ত করা ইত্যাদি।
পেজ অপ্টিমাইজ করা
কোম্পানির দুর্দান্ত প্রোফাইলই অনেক দূর নিয়ে যাবে না। গ্রাহকরা যদি এটি খুঁজেই না পায় তাহলে এটি থাকার সুবিধা কী? তাই এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) ব্যবহার করতে হবে। কোম্পানির প্রোফাইলে কীওয়ার্ড যুক্ত করতে হবে। কীওয়ার্ডগুলো যেন ব্যবসা, পণ্য বা পরিষেবার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। কোন কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে যদি দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন তাহলে আপনার পণ্য বা পরিষেবাটি গুগলে সার্চ করুন, দেখুন সম্ভাব্য গ্রাহকরা গুগলে কোন শব্দ বা বাক্যাংশ টাইপ করে তা খোঁজ করেছে। সেখান থেকে সার্চ ভলিউমে ওপরে থাকা কীওয়ার্ডগুলো বেছে নিন।
কনটেন্ট শেয়ার করুন
প্রোফাইল সেটআপ হয়ে গেলে এবার কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার (পোস্ট) করার সময় এসেছে। কনটেন্ট মার্কেটিং যে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, লিংকডইনও এর ব্যতিক্রম নয়। লিংকডইন পণ্য বিপণন অন্যান্য যে কোনো মাধ্যমের চেয়ে আউটপুটে আরও সফল হতে পারে। এই প্ল্যার্টফরমে অনেক পেশাদার রয়েছে, যারা জ্ঞান অর্জন ও তথ্যের জন্য ক্ষুধার্তই বলা যায়। ৯১ শতাংশ পেশাদাররা প্রাসঙ্গিক পণ্যের তথ্যের ক্ষেত্রে লিংকডইনকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়। সে জন্য আপনার পরিষেবা ও বাজারের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর ব্লগ, ওয়েবিনার, ভিডিও শেয়ার করুন। অবশ্যই মানের দিকে মনোনিবেশ করবেন কারণ লিংকডইনে সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ বা চিন্তাবিদের কাছেও পোস্টটি যেতে পারে। মান বজায় রেখে কনটেন্ট শেয়ার মানে তাদের মূল্যায়ন করা। এতে খুব শিগগিরই একটি ভালো অডিয়েন্স পাবেন, যারা বারবার আপনার পেজে বা প্রোফাইলে ফিরে আসবে। কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের জন্য বিশাল বাজেট প্রয়োজন, এমনটা ভাববেন না। বরং ভিডিও ও গ্রাফিক্স তৈরি করুন আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনে, এডিটিং অ্যাপ ব্যবহার করুন বিনামূল্যে।
ফলোয়ার বৃদ্ধিতে কৌশলী
কনটেন্ট মার্কেটিং নতুন নতুন ফলোয়ার যুক্ত করার উপায়। কাজের মাধ্যমে ফলোয়ার বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমন : আপনাকে ফলো করার জন্য গ্রাহক ও অংশীদারদের আমন্ত্রণ জানানো, ব্লগ, ইমেইল নিউজলেটার কিংবা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে লিংকডইনে আপনার সক্রিয়তা প্রচার করা, পছন্দমতো অন্যের কোনো ব্লগ পোস্ট, ভিডিও বা আর্টিকেল শেয়ার করা, কারও জন্য পোস্টটি দরকারি মনে করলে তাদের মেনশন বা ট্যাগ করা, ফলোয়ারদের প্রশংসা করা এবং কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া।
নিরীক্ষাকরণে ভয় নয়
লিংকডইন বিপণনের সবদিক আয়ত্ত করেছেন, এবার বৈচিত্র্য আনার দিকে নজর দিন। প্রতিদিন বা সপ্তাহে একদিন পুরো সপ্তাহের কনটেন্টগুলো অ্যানালাইস করুন। দেখুন ফলোয়াররা কোন পোস্টগুলো বা কোন বিষয়ের কনটেন্টগুলোতে সময় দিয়েছে, সেটা নিরীক্ষা করে নোট করুন এবং সেদিকে সময় দিন। পাশাপাশি আপনার প্রতিযোগীর পেজ বা প্রোফাইলগুলো দেখুন, যাচাই করুন তারা কতটা কার্যকরভাবে লিংকডইন ব্যবহার করছে। এবার আপনার শূন্যতা বা সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো পূরণে লেগে পড়ুন।
ফলাফল পরখ করুন
ব্যবসার বৃদ্ধিতে এবং গ্রাহকের কাছে আরও পৌঁছানোর জন্য নিয়মিত সফলতা ও ব্যর্থতার মাপকাঠি পরখ করুন। আপনার প্রচেষ্টা বিশ্লেষণ করুন। প্রতি মাসে বা প্রতি সপ্তাহে একবার, সে মাসে বা সপ্তাহে কতটা এগিয়েছেন বা পিছিয়েছেন সেটার একটি রিপোর্ট তৈরি করুন। এভাবে নিজস্ব বিশ্লেষণ করে কাজ করে যেতে পারলে অল্প সময়ে সাফল্য পেতে পারেন।
