রূপ বদলে করোনাভাইরাস টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পরিবেশে। সম্প্রতি করোনার একটি নয়া রূপ আত্মপ্রকাশ করেছে। করোনার বিএ.২.৮৬ ভ্যারিয়ান্ট রূপ বদলে নতুন করে ফিরে এসেছে। নয়া এই ভ্যারিয়ান্টের নাম দেওয়া হয়েছে জেএন.১। ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার নতুন এই ধরন। এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে খোঁজ মিলেছিল করোনার এই নতুন উপপ্রজাতির। দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ বিশ্বের ১১টি দেশে এই প্রজাতি খুঁজে পাওয়া গেছে। এই উপপ্রজাতিকে পিরোলা নামেও ডাকা হচ্ছে।
ওমিক্রনের জেনেটিক মিউটেশনের ফলেই নতুন এই প্রজাতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা গবেষকদের। যদিও প্রজাতির সংক্রমণের আক্রান্তের সংখ্যা এখন খুবই কম। তবে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, পিরোলা দ্রুত হারে মানুষের শরীরে ছড়াতে শুরু করলে অনেক বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, নতুন এই প্রজাতিতে বার বার মিউটেশন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে স্পাইক প্রোটিনেই ২০ বার অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড বদলে গেছে। মানুষের শরীরে এই প্রজাতি খুব দ্রুত ছড়াতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
ওমিক্রন এই উপপ্রজাতি কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত খুব জটিল রোগ হতে দেখা যায়নি। এই প্রজাতি যেহেতু খুব দ্রুত মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে তাই উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আরো একটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে পিরোলার। এটি অ্যান্টিবডির ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যান্টিবডি ভাইরাল স্ট্রেনের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, কিন্তু পিরোলার এমন ক্ষমতা আছে যা অ্যান্টিবডির গুণই নষ্ট করে দিতে পারে।
ভাইরোলজিস্টদের মতে, সংক্রামক ভাইরাস যত বেশি মানুষের শরীরে ছড়াবে, ততই তার জেনেটিক সিকুয়েন্স বা জিনগত বিন্যাসের বদল হবে। মানুষের শরীরে ছড়াতে হলে ভাইরাসকে সংখ্যায় বাড়তে হবে, তাই দ্রুত তার বিভাজন হবে। আর যত বেশি বিভাজন হবে ততই ভাইরাস নিজেকে নতুন করে তৈরি করে নেবে, সংক্রামক থেকে অতি সংক্রামক হয়ে উঠবে। সূত্র: টাইমন অব ইন্ডিয়া
