নিম্নমানের সামগ্রীতে সেতু ঢালাইয়ের আয়োজন

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৩৪ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া-শিলখালী সড়কের শিলখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, সামনে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের সময়, কিন্তু ওই ঢালাইয়ের জন্য আনা হয়েছে নিম্নমানের উপকরণ। এতে এলাকাবাসী সেতুটি বেশিদিন টিকবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মাণাধীন ২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ওই সেতুটির বাজেট কোটি টাকার কিছু বেশি। কাজটিতে ঠিকাদার বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিলেও পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় অনিয়ম বন্ধে কোনো ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসীদের দেওয়া তথ্য মতে, পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পেন্ডির ব্রিজটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সেটি ভেঙে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্রিজ নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের পটিয়ার মেসার্স নিপা কনস্ট্রাকশন।

কিন্তু কাজের শুরু থেকেই ব্রিজ নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে আনুষঙ্গিক কাজ করলেও পেকুয়া এলজিইডি অফিস রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র স্বচক্ষে দেখেছেন।

তিনি দেখেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সেতুর বিভিন্ন অংশের কাজ করায় এখনই বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এখন ব্রিজের ছাদ ঢালাই দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অভিযুক্ত ঠিকাদার। কিন্তু ছাদ ঢালাই দেওয়ার জন্য ব্রিজ এলাকায় রাখা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর ও ইটের কংকর।

এদিকে ব্রিজ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিপা কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিউজ করলে কী হবে, যে পরিদর্শনে আসবে তাকে আমরা ম্যানেজ করব।’

স্থানীয়রা এ সময় এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পেকুয়া এলজিইডির অফিসে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালাল ওই ব্রিজ নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে। কিন্তু তার সঙ্গে গোপনে ঠিকাদারের আঁতাত রয়েছে। প্রকৌশলী শাহজালালের আশ্রয়ে ঠিকাদারের লোকজন ‘‘যেনতেনভাবে’’ শিডিউল বহির্ভূতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ ব্রিজের কাজে তদারকিতে অবহেলার কারণে স্থানীয়রা পেকুয়া এলজিইডির অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলীর অপসারণও দাবি করেছেন। 

তবে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালাল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ব্রিজের নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। ঠিকাদারের সঙ্গেও কোনো আঁতাত নেই।’

এলজিইডি পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, শিলখালীতে ব্রিজ নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। প্রত্যেকটি উন্নয়ন কাজের তদারক হয় যথাযথভাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত