মেট্রোরেল চালুর পর থেকে দেশ জুড়ে প্রশংসায় ভাসছিল। যাত্রী সেবা থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন যাত্রীরা।
তবে হঠাৎ করে মেট্রোরেল জায়গা করে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং তা নেতিবাচকভাবে। আজ সোমবার দুপুর থেকে মেট্রোরেল কোচের ভেতরে বিজ্ঞাপন সাঁটানো নিয়ে কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যায়, বিজ্ঞাপনগুলো দরজা, জানালা এবং নির্দেশনার কাছে লাগানো।
এরপর থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ফেসবুকে। ব্যবহারকারীরা বলছেন, আয় বাড়াতে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সাঁটানোর অনুমতি দিতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই তাই হয়ে থাকে। কিন্ত এসবে একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হয়। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্ত পোস্টার কিংবা বিজ্ঞাপন দিয়ে মেট্রো রেলের সৌন্দর্য নষ্ট করা উচিত হবে না।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আল-আমিন রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, দৃষ্টিনন্দন এবং অত্যাধুনিক মেট্রোরেলের ভেতরে এমন দৃষ্টিকটু বিজ্ঞাপন লাগানোর ঘোর বিরোধী আমি। এমন আবর্জনা টাইপের আইডিয়া যার মাথা থেকে আসছে, তার রুচি কতো নিম্ন মানের এটা সহজেই অনুমেয়। আমাদের মেট্রোরেল এমনিতেই লাভজনক হবে, এসব আবর্জনা লাগানোর প্রয়োজন নাই।
তার পোস্টের নিচে সুজাদ আহমেদ নামের একজন মন্তব্যে করেন, এইসব বিজ্ঞাপন তুলে নেওয়া জরুরি । কারণ আমাদের একবার শুরু হলে আর শেষ হবে না । নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষও এর সাথে জড়িত,তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
সিয়াম শুভ লিখেন, জনগণ যেহেতু মেট্রোরেলকে নষ্ট করছে না, তাই দায়িত্বশীল কিছু সাবেরা এই কষ্টটি করছেন।
আব্দুল্লাহ মোল্লা ফেসবুকে লিখেন, খুবই বাজে বিষয়, ভালো জিনিসটাকে নোংরা করা এখান থেকে শুরু। এখন সব ডিজিটাল, তাহলে ডিজিটাল স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন দিতে সমস্যা কোথায়, এভাবে টাকার জন্য ভালোকে নষ্ট করতে হবে?
বিদেশে মেট্রোরেল স্টিকার লাগায় কিন্তু সেগুলো ডিজাইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। এগুলা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনসম্মতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য 'বিজ্ঞাপনের জন্য' বরাদ্দ দিয়েছি। আমাদের ডিসপ্লেতেও বিজ্ঞাপন প্রচার হবে। মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন আয়ের একটি উৎস। সারা বিশ্বেই এটা আছে। আয় না হলে যাত্রীদের ভাড়ার খরচ বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু শর্ত আছে। আমরা এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব কীভাবে এই শর্তগুলো যাত্রীবান্ধব হয়।
