হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা ভূখণ্ডের পার্লামেন্ট ভবন দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে তীব্র লড়াইয়ের পর ওই ভবনটি দখল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলী বাহিনীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে ভবনের ভেতরে ইসরায়েলের পতাকা হাতে বিজয়ের হাসি হাসছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) সেনারা।
আইডিএফের দাবি, তাদের সপ্তম সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং গোলানি কামান ব্রিগেড হামাসের কয়েকটি সরকারি ভবন ও পার্লামেন্ট দখল করেছে।দখল করা ভবনের মধ্যে হামাসের রাজনৈতিক সদর দপ্তরও রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা গাজা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই ফ্যাকাল্টি অস্ত্র উৎপাদন এবং তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতো।
স্বশাসিত প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের নির্বাচনে দেড় দশক আগেই গাজায় নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছিল হামাস। পার্লামেন্ট ভবনটিও ছিল তাদেরই দখলে। গত ২৭ অক্টোবর ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ শুরুর পরে ইসরায়েলি সেনার এই সাফল্যের ‘প্রতীকী তাৎপর্য’ রয়েছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষক এবং কূটনীতিকদের একাংশের অনুমান।
গাজা থেকে হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দেন ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণার পর গত ৭ অক্টোবর বিধ্বংসী আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলী বাহিনী। ইসরায়েল সেনার মুখপাত্র দানিয়েল হাগারির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আমরা গাজাকে দ্রুত হামাসমুক্ত করবো।
ইসরায়েলের এই নিধনযজ্ঞে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু। তবুও হামলা থামছে না। রক্ষা পায়নি মসজিদ। এমনকি গাজার হাসপাতালগুলোকে হামাসের আস্তানা আখ্যা দিয়ে সেগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলী সেনারা। এখন গাজার আল-শিফা হাসপাতালের নিচে হামাসের অপারেশন কার্যালয় ও জিম্মিদের রাখা হয়েছে অভিযোগ তুলে পুরো এলাকা ট্যাংক দিয়ে ঘিরে রেখেছে আইডিএফ, মোতায়েন করেছে স্নাইপার।
